সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

Beta Version

ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠতম দু‘আ

POYGAM.COM
জানুয়ারি ২০, ২০১৮
news-image

একজন মুমিন নিজের গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা লাভের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সবসময় ধর্ণা দেবে এবং মাফ চাইতে থাকবে। এতে আল্লাহ খুশি হন। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাইলে আল্লাহ খুশি হন। তাঁর কাছে না চাইলে বরং তিনি নারাজ হন।

আমরা দেখতে পাই, সমাজে মানুষের কাছে কোনো কিছু বার বার চাইলে সে বিরক্ত হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ বার বার চাইলে বান্দার প্রতি খুশি হন। মনের সকল মাধুরি মিশিয়ে নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা, নিজের সকল সুন্দর প্রত্যাশাগুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করা, জীবনের নানা সংকট ও সমস্যার সমাধান কায়মনো বাক্যে তাঁর কাছে কামনা করা, সকল কাজে আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্তির প্রত্যাশা করা, আর সকল ধরনের অনিষ্ট-অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।

আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ ইবাদতগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালনের পাশাপাশি সুন্নাহর অনুসরণে অন্যান্য নফল ইবাদত সম্ভব মতো আদায় করার সাথে সাথে আল্লাহর কাছে দু‘আ-প্রার্থনা জারি রাখার মাধ্যমেই মূলত আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়।

আল্লাহর কাছে সঠিক পথ পাওয়া, সত্যের ওপর চলা অর্থাৎ হেদায়াত প্রাপ্তির দু‘আ হলো সবচাইতে বড় দু‘আ। এ কারণেই প্রতি নামাজের প্রতি রাক‘আতে আল্লাহ মুমিনের জন্য সুপথে চলার দু‘আকে আবশ্যিক করেছেন।

ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম, সিরাতাল-লাজিনা আন-‘আমতা ‘আলাইহিম; গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম, ওয়ালাদ-দোআল্লিন। ‘হে প্রভু, আমাদেরকে সরল-সুদৃঢ় পথ দেখাও। তাদের পথ, যাদের প্রতি তোমার অনুগ্রহ হয়েছে। যাদের প্রতি গযব পতিত হয়নি এবং যারা অভিশপ্ত নয়।’

আবার নামাজের শেষাংশে এসেও আল্লাহর কাছে আমরা নিজকে সমর্পণ করছি মাগফেরাতের জন্য— নিজের ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে ও মাফ চেয়ে এবং রহমত কামনা করে— ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীর, ওয়া লা ইয়াগফিরুয-যুনূবা ইল্লা আনতা; ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা; ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম।’

মানুষ হিসাবে ভুল-ভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক। মানবীয় দুর্বলতার কারণে ও শয়তানের ফেরেবে পড়ে অনেক সময়ই গুনাহের কাজ হয়ে যায় আমাদের। কারণ, মানুষের প্রকৃতিই এমন। এ গুনাহগুলোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বান্দাহ ও আল্লাহর মধ্যে। এজন্য মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবে। প্রভুর কাছে অনুতাপের আগুনে দগ্ধ হয়ে বিগলিত চিত্তে ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। গুনাহগুলো মাফ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত-বরকত আসতে থাকবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহ করে থাকে। তবে উত্তম হলো সে, যে তাওবা করে।’ অর্থাৎ মানুষ তার কৃতপাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে ভালোর দিকে ফিরে আসবে। সেজন্য প্রিয়নবী (সা.) আমাদেরকে অতি সুন্দরভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা শিখিয়েছেন।

তাঁর সুললিত প্রাঞ্জল ভাষায় বহু ইসতিগফারের দু‘আ আমরা হাদীস গ্রন্থগুলোতে দেখতে পাই। তাঁর সে ভাষায় বিশ্বজাহানের প্রভুর কাছে আত্মনিবেদনের চিত্র কতো সুন্দরভাবেই না ফুটে ওঠে। আমরা সেসব দু‘আ শিখে নিয়ে তা থেকে প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারি।

রাসূল (সা.) ক্ষমা প্রার্থনার যেসব দু‘আ করেছেন এবং আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ একটি দু‘আ রয়েছে, যাকে হাদীসে বলা হয়েছে— ‘সাইয়িদুল ইসতিগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দু‘আ। সাইয়িদ মানে নেতা বা সরদার। এ দু‘আকে বলা হয়েছে গুনাহমাফির দু‘আসমূহের সরদার। দু‘আটি হলো—

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُك وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

বাংলা উচ্চারণ:

‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী,
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা;
খালাকতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা
ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা
ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত‘তু;
‘আউযুবিকা মিন শার্‌রি মা ছা‘নাতু
আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা
ওয়া আবূউ বিযামবী, ফাগফির্ লী,
ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।’

বাংলা অর্থ:

‘হে আল্লাহ, তুমি আমার প্রতিপালক,
তুমি ছাড়া প্রকৃত ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই।
তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আর আমি তোমার গোলাম;
আমি তোমার হেদায়াতের পথে চলছি এবং সাধ্যমত
তোমার সাথে কৃত অঙ্গীকারের উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করছি।
আমার কৃত-কর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমাকে যত নেয়ামত দিয়েছ, সেগুলোর স্বীকৃতি প্রদান করছি।
যত অপরাধ করেছি সেগুলোও স্বীকার করে নিচ্ছি।
অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
কারণ, তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা এই দু‘আটি (সাইয়িদুল ইসতিগফার) পাঠ করবে, ওই দিন সন্ধ্যা হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে সে জান্নাতবাসী হবে। এবং যে কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে রাতে এ দু‘আ পাঠ করবে, ওই রাতে মৃত্যুবরণ করলে সে জান্নাতবাসী হবে।’ [সহীহুল বুখারী]

সাইয়িদুল ইসতিগফার সম্পর্কে আমরা হয়তো অনেকেই জানি বা জানি না। সেভাবে হয়তো গুরুত্ব দেই না। কিন্তু ছোট হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণা অনুযায়ী— যে কোনো আমল পরিমাণে কম হলেও নিয়মিত করার মধ্যে বেশি ফায়দা বা ফল রয়েছে। তাই আসুন, আমাদের গুনাহ মাফের জন্য রাসূল (সা.)-এর শেখানো সর্বশ্রেষ্ঠ এ দু‘আটি মুখস্থ করে নিই এবং নিয়মিত তা আমল করি। কেননা, এর আমলকারীর জন্য রাসূল (সা.) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।

— কামরুল ইসলাম হু্মায়ুন

বর্তমান দুনিয়ার বিখ্যাত কারী মিশারী আল আফাসির কণ্ঠে শুনুন সেই সাইয়িদুল ইসতিগফার—