সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

Beta Version

তুরাগ তীরে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

POYGAM.COM
জানুয়ারি ১৪, ২০১৮
news-image

পয়গাম ডেস্ক:: টঙ্গী: তাবলিগ জামাআতের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কমনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শেষ হয়েছে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় সোয়া এগারোটায়।

ইজতেমার মূল মঞ্চ থেকে আশপাশের সব জায়গা মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মুসল্লিরা নিজ নিজ জায়গায় বসে আল্লার দরবারে দু’হাত তুলে নিজেদের কৃত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশ্ব মুসলিমের শান্তি কামনা করেছেন।

রবিবার বাদ ফজর হেদায়েতি বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল মতিন। তার বয়ানের পরই রবিবার বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলায় আখেরি মোনাজাত শুরু করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের ।

এবার আখেরি মোনাজাত ও হেদায়েতি বয়ান দুইই হলো বাংলায়। এবারই প্রথম বাংলায় আখেরি মোনাজাত করা হলো।

প্রায় দুই দশক ধরে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেছেন, ভারতের প্রখ্যাত আলেম ও বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা জোবায়েরুল হাসান। তিনি মারা যাওয়ার পর মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারতের আরেক শীর্ষস্থানীয় তাবলিগ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি। তবে মাওলানা সাদকে নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর তিনি এবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেননি।

এদিকে দেওবন্দী ঘরানার কিছু আলেম ও তাবলিগের একাংশের প্রতিবাদের মুখে ইজতেমায় যোগ না দিয়ে শনিবার দুপুরে ঢাকা ছেড়েছেন বিশ্ব তাবলিগ জামাআতের আমির দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি।

মোনাজাতের প্রথম ১৫ মিনিট কুরআনের আয়াত ও হাদিস পাঠ করেন মাওলানা জোবায়ের। ক্ষমা প্রার্থনা, রহমত প্রার্থনা ও ঐক্যের আয়াত-হাদিসগুলোই বেশি পাঠ করেন তিনি।

মোনাজাতে দেশ ও বিশ্বে যে সমস্ত ভালো কাজ হচ্ছে তা কবুল করে নেওয়ার  জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।

বেকারদের চাকরি, ঋণমুক্তি, অসুস্থ, বিবাহযোগ্যদের বিয়ের জন্য দোয়া, ইজতেমার ব্যবস্থাপনায় সরকারের সহযোগিতার জন্য কল্যাণ কামনা, শীতার্ত, রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন। শিক্ষা অর্জনে যারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তাদের সুশিক্ষা অর্জনের জন্য হেদায়েত কামনা করেন মাওলানা জোবায়ের।

আখেরি মোনাজাতে সার্বিকভাবে ধনী-গরিব, মালিক-শ্রমিক, শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সব বয়সের বিভিন্ন পেশার দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি আল্লাহর দরবারে দু’হাত তোলেন। কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা, আত্মশুদ্ধি, দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত, বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, শান্তি, দেশ ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনায় দু’হাত তুলে দোয়া করেন।

গাজীপুর ও ঢাকাসহ আশপাশের জেলার মুসল্লিরা শরিক হন আখেরি মোনাজাতে। ভোর থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্রেন ও নৌকাযোগে ইজতেমামুখী ঢল নামে মুসল্লিদের। দুর্ভোগ এড়াতে অনেকে রাতেই অবস্থান নেন ইজতেমা এলাকায়।

ইজতেমা ময়দানে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার মুসল্লি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ফুট ওভার ব্রিজ, বাসা-বাড়ি, কলকারখানা, মার্কেট ও যানবাহনের ছাদ, বিভিন্ন অলি-গলি ও তুরাগ নদে নৌকায় বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি।

গত শুক্রবার লাখো মুসল্লির একত্রে জুমআর নামায আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় ইবাদত, বন্দেগি ও বয়ানের মধ্য দিয়ে প্রথম দিন, দ্বিতীয় অতিবাহিত করে আজ তৃতীয় দিনে মুনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্ব শেষ হলো।