রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

Beta Version

বিয়ে করতে বাধ্য করা হলো অপরিচিত পাত্রীকে

POYGAM.COM
জানুয়ারি ৬, ২০১৮
news-image

জোর করে চ্যাংদোলা করে বিয়ের অনুষ্ঠানে আনা হয় বিনোদ কুমারকে। ছবি: সংগৃহীত

চিত্র-বিচিত্র ডেস্ক: পড়া শেষ করে সম্প্রতি চাকরি শুরু করেছেন ২৯ বছরের বিনোদ কুমার৷ কিন্তু জীবনে যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা বোধ হয় ভাবতেও পারেননি৷ বন্দুক ঠেকিয়ে অপরিচিত এক পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে রাঁচির বাসিন্দা বিনোদের। বিহারের রাজধানী পাটনায় এ ঘটনা ঘটেছে। বন্দুক ঠেকিয়ে জোর করে দেওয়া বিয়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, গত ২ ডিসেম্বর নতুন চাকরিতে যোগ দিতে বিনোদ কুমার রাঁচি থেকে বিহারের রাজধানী পাটনায় যান। সেখানকার বোকারো স্টিল প্ল্যান্টের কর্মকর্তা বিনোদ। অফিস থেকে ৩ তারিখে বাসায় না ফেরায় চিন্তিত পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে বন্দুকের নলের মুখে তাঁকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বিয়ের ছবির এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বর বিনোদ কুমার কাঁদছেন, বিয়ে করতে চাইছেন না। কিন্তু জীবনের চেয়ে কি বিয়ে বড়? অগত্যা বিয়েটি সম্পন্ন হয়।

পরিবারের অভিযোগ, এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিহারের পান্ডারার্ক জেলায় যান বিনোদ কুমার। সেখানে গিয়ে দেখেন বিয়ের আয়োজন চলছে। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে জোর করে ধরে পাত্রের সাজে সাজানো হয় বিনোদকে। বিয়ের মঞ্চে নেওয়া হয় বন্দুকের নল তাক করে। বন্দুকের নলের সামনে জোর করে অপরিচিত পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় বিনোদ কুমারকে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ভিডিওতে দেখা যায়, পাশে বসে থাকা পাত্রীকে সিঁদুর পরাতে নারাজ সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া বিনোদ কুমার। বিয়ের মঞ্চে বসে তিনি হাউহাউ করে কাঁদছেন আর আকুতি করছেন যেন এভাবে তাঁর বিয়ে না দেওয়া হয়। পাত্রকে এমন কাঁদতে দেখে বিয়েতে উপস্থিত অনেকেই হতভম্ব হয়ে যান। ওই নারীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে অস্বীকার করছেন, তখন আশপাশের নারী স্বজনেরা বলছেন, ‘আমরা আপনার বিয়ে দিচ্ছি, কোনো কিছু গছিয়ে দিচ্ছি না।’

বিয়ের পর বিবাহিত স্ত্রীকে গ্রহণে অস্বীকার করায় বিনোদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে বিনোদের পরিবার নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলে পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে।

বিয়ের মঞ্চে বসে হাউহাউ করে কাঁদছেন বিনোদ কুমার। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ আছে, বিহারে অনেক দিন ধরেই ছেলেদের অপহরণ করে বন্দুকের নলের মুখে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়িতে কয়েক বছর ধরে এমন উপায়ে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে না। তবে গোপনে হলেও এটা চালু রয়েছে।

এদিকে বিনোদের ভাই সঞ্জয় কুমার অভিযোগ করেছেন, বিনোদ বাড়ি না ফেরায় তাঁরা থানায় জানিয়েও কিছু হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ভারতের পুলিশের বরাত দিয়ে এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে পুরো ভারতে এভাবে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে তিন হাজার জনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর কোনো বিয়েকে অকার্যকর বা ভেঙে দেওয়া যায়নি।

এ জাতীয় আরও খবর