রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

Beta Version

‘বায়তুল মুকাদ্দাস নিয়ে মুসলিম বিশ্ব আপোস করবে না’

POYGAM.COM
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭
news-image

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, মুসলমানদের কাছে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের বিরাট মূল্য রয়েছে এবং এ নিয়ে মুসলিম বিশ্ব আপোস করবে না।

শনিবার আমেরিকার শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত ষোড়শ ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা-মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি কনভেনশনে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে মুসলমানদের কাছে ‘রেড লাইন’।

নৃতাত্বিক, সাম্প্রদায়িক কিংবা সাংস্কৃতিক পার্থক্যের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে কাউকে বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ না দেয়ার জন্যও তিনি আহ্বান জানান।

এ সময় বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।

২১ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইল-মার্কিন বিরোধী প্রস্তাব পাসের প্রশংসা করে এরদোগান বলেন, ‘বায়তুল মুকাদ্দাসকে কেন্দ্র করে আমাদের যে বিজয় অর্জিত হয়েছে তা থেকে প্রমাণ হয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘের ওই ভোটাভুটির মধ্যদিয়ে একথাও পরিষ্কার হয়েছে যে, এমন কিছু মূল্যবোধ রয়েছে যা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।’

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ অব্যাহত

জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবারও কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ও ফিলিস্তিনের ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিমতীরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলি নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫৬ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই গাজা সীমান্ত এলাকায় আহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৈন্যরা তাদের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে ওঠা ‘প্রধান উসকানিদাতাদের’ গুলি করেছেন, যারা সীমান্তের নিরাপত্তা বেড়াগুলো ভাঙার চেষ্টা করছিল।

তিনি আরো জানান, পশ্চিমতীর ও গাজায় প্রায় চার হাজার ফিলিস্তিনি রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী মূলত কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এর জবাব দেয় বলে দাবি করেন তিনি। গাজার বিক্ষোভকারীরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরাইল নিপাত যাক, ট্রাম্প নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দেন।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়ে। এর জবাবে ইসরাইলি ট্যাঙ্ক থেকে গাজায় গোলা নিক্ষেপ করে এবং ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে হামলা চালায়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসরাইলের দিকে ছোড়া তিনটি রকেটের মধ্যে দুটি প্রতিহত করার পর তারা গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি সংস্থা হামাসের অবস্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এ জাতীয় আরও খবর