রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

Beta Version

বিতর নামাযের রাক‘আত সংখ্যা ও আদায়ের পদ্ধতি

POYGAM.COM
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭
news-image

বিতর নামায মূলতঃ রাতের নামায বা তাহাজ্জুদ নামাযের অংশ। তাই রাতের পুরা কিয়ামুল্লাইলকেও বিভিন্ন হাদীসে বিতর বলা হয়েছে। বিতর নামাযের উত্তম সময় হচ্ছে শেষ রাত— যখন তাহাজ্জুদ নামায পড়া হয়। কিন্তু সঙ্গত কারণ থাকলে তা এশার নামাযের সাথে পড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে— এই নামাযের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করার জন্য।

বিতর নামাযের রাক‘আত সংখ্যা নির্দিষ্ট একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয় এ নামায ১, ৩, ৫, ৭, ৯, ১১ ও ১৩ রাক‘আত পর্যন্ত পড়া যায়।

এক রাক‘আত বিতর

এক রাক‘আত বিতর পড়ার নিয়ম হল, নিয়ত বেঁধে ছানা, সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়ে রুকূ করবে। রুকূ থেকে উঠে দু‘আ কুনূত পড়বে। তারপর দু’টি সিজদা করে তাশাহুদ, দরূদ ও দু‘আ পড়ে সালাম ফিরাবে।

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের নফল নামায দু’দু রাক‘আত করে পড়তেন এবং এক রাক‘আত বিতর পড়তেন। [বুখারী ৯৩৬, ৯৩২, ৯৩৪ । মুসলিম ১২৫১]

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বিতর হচ্ছে শেষ রাতে এক রাক‘আত নামায। [মুসলিম ১২৪৭]

আবু মিজলায হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রা.)-কে বিতর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বিতর হচ্ছে শেষ রাতে এক রাক‘আত নামায। তিনি বলেন, ইবনু উমারকেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তিনিও বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বিতর হচ্ছে শেষ রাতে এক রাক‘আত নামায। [মুসলিম ১২৪৯]

ইমাম নববী বলেন, এসকল হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যায় যে, বিতর নামায এক রাক‘আত পড়া বিশুদ্ধ এবং তা শেষ রাতে আদায় করা মুস্তাহাব। [শরহে নববী, সহীহ মুসলিম ৬/২৭৭]

আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) বর্ণিত হাদীসেও এক রাক‘আতের কথা প্রমাণিত হয়েছে। সেই হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, … যে এক রাক‘আত বিতর পড়তে চায় সে এক রাক‘আত পড়তে পারে। [আবু দাউদ ১২১২ । ইবনু মাজাহ ১১৮০]

সাহাবীদের মধ্যে আবু বকর, উমার, উসমান, আলী, সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, মুআয বিন জাবাল, উবাই বিন কা’ব, আবু মূসা আশআরী, আবু দারদা, হুযায়ফা, ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, মুআবিয়া, তামীম দারী, আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিআল্লাহু আনহুম) প্রমুখ এবং তাবেঈদের মধ্যে ইমাম যুহরী, হাসান বাসরী, মুহাম্মাদ বিন সীরীন, সাঈদ বিন যুবাইর (রাহি.) প্রমুখ আর প্রচলিত চার মাযহাবের তিন ইমাম ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ (রাহি.) প্রমুখও এক রাক‘আত বিতর পড়ার পক্ষপাতি ছিলেন। [নায়লুল আওতার থেকে আইনী তোহফা ১/২২২ পৃ:]

সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মসজিদে এশা নামায আদায় করতেন, অতঃপর এক রাক‘আত বিতর পড়তেন, এর বেশী নয়। তাকে বলা হত, আবু ইসহাক! আপনি এক রাক‘আতের বেশী বিতর আদায় করেন না? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি বিতর না পড়ে নিদ্রা যায় না সে দৃঢ়তা সম্পন্ন লোক। [মুসনাদে আহমাদ ১৩৮২]

তিন রাক‘আত বিতর

এ নামায পড়ার বিশুদ্ধ পদ্ধতি হচ্ছে দুটি। প্রথম পদ্ধতি—

দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফেরানো। অতঃপর এক রাক‘আত পড়া। এ পদ্ধতির দলীল হলো—

আবদুল্লাহ্‌ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ছাহাবী রাতের নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞেস করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রাতের নামায দু’দু রাক‘আত করে, যখন ফজর হওয়ার আশংকা করবে তখন এক রাক‘আত বিতর পড়ে নিবে। [বুখারী ৯৩২ । মুসলিম ১২৩৯]

এ পদ্ধতি অনুযায়ী বিতর মূলত এক রাক‘আতই। দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরানো অতঃপর এক রাক‘আত পড়া। যেমন—

ইবনে উমার (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হল, দু’দু রাক‘আত মানে কী? তিনি বললেন: প্রত্যেক দু’রাক‘আত পর পর সালাম ফিরাবে। [মুসলিম ১২৫২]

ইবনে উমার (রা.), ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক প্রমুখ এভাবেই বিতর পড়তেন। [আল মুগনী ২/৫৮৮]

ইবনে উমার (রা.) থেকে আরো বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বিতর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, দু’রাক‘আত এবং এক রাক‘আতের মাঝে সালাম ফিরে পার্থক্য করে নিবে। [আল মুগনী ২/৫৮৯]

আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বাড়ীতে থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কক্ষের মধ্যে নামায পড়তেন। তিনি দু’রাক‘আত এবং এক রাক‘আতের মাঝে পৃথক করতেন, এসময় তিনি আমাদেরকে শুনিয়ে জোরে সালাম দিতেন। [আহমাদ ২৩৩৯৮]

হযরত আয়েশা (রা.) আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাক‘আত বিতর পড়তেন। তিনি দু’রাক‘আত এবং এক রাক‘আতের মাঝে কথা বলতেন। [ইরওয়াউল গালীল ৪২০]

নাফে’ বলেন, আবদুল্লাহ্‌ বিন উমার (রা.) বিতরের দু’রাক‘আত এবং এক রাক‘আতের মাঝে সালাম ফিরাতেন এবং কোন দরকারী বিষয় থাকলে তার নির্দেশ দিতেন। [বুখারী ৯৩২]

দ্বিতীয় পদ্ধতি—

দু’রাক‘আত পড়ে তাশাহুদের জন্য না বসে সালাম না ফিরিয়ে একাধারে তিন রাক‘আত পড়ে সালাম ফেরানো।

হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন রাক‘আত বিতর নামায পড়তেন। এর মধ্যে তাশাহুদের জন্যে বসতেন না, একাধারে তিন রাক‘আত পড়ে শেষ রাক‘আতে বসতেন ও তাশাহুদ পড়তেন। এভাবেই বিতর পড়তেন আমীরুল মু’মেনীন হযরত উমার বিন খাত্তাব (রা.)।

একাধারে তিন রাক‘আত বিতর পড়ার ইঙ্গিতে আরেকটি হাদীস পাওয়া যায়।

উবাই বিন কা’ব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর নামাযে প্রথম রাক‘আতে ‘সাব্বিহসমা রাব্বিকাল আ’লা’, দ্বিতীয় রাক‘আতে ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফেরূন’ এবং তৃতীয় রাক‘আতে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তেন। আর সবগুলো রাক‘আত শেষ করেই সালাম ফেরাতেন। [নাসাঈ ১৬৮১]

মাগরিবের মত তিন রাক‘আত বিতর পড়া

তিন রাক‘আত বিতরের ক্ষেত্রে উল্লেখিত দুটি পদ্ধতি ছাড়া আরো একটি পদ্ধতি আছে তা হলো বিতর নামাযকে মাগরিবের নামাযের মত করে পড়া। অর্থাৎ, দু’রাক‘আত পড়ে তাশাহুদ পড়ে সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়া ও এক রাক‘আত পড়া। যেমন আমাদের সমাজে সচরাচর হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিটির পক্ষে দলীল হলো—

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, রাতের বিতর তিন রাক‘আত, তা হলো দিনের বিতর মাগরিবের মত। [দারাকুতনী ২/২৭, ২৮ । বায়হাকী ৪৮১২]

এ হাদীসটি ইমাম দারাকুতনী বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়; যঈফ।

ইমাম বাইহাকী বলেন, হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত হলেও তা মূলতঃ ইবনে মাসউদের নিজস্ব কথা হিসেবে প্রমাণিত। [নাসবুর রায়া ২/১১৬]

বিতর নামায মাগরিবের মত আদায় করার ব্যাপারে আরেকটি যুক্তি পেশ করা হয়। তা হচ্ছেঃ সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে— মাগরিব হচ্ছে দিনের বিতর নামায। অতএব তোমরা রাতের নামাযকে বিতর কর।

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, রাতের বিতর মাগরিবের মত করেই আদায় করতে হবে।

কিন্তু এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এখানে রাক‘আতের সংখ্যার দিক থেকে যেমন মাগরিব নামায বিতর তথা বেজোড় করা হয়, অনুরূপ রাতেও বিতর তথা বেজোড় নামায আদায় করবে— উক্ত নামায আদায় করার জন্য মাগরিবের মত দু’ই তাশাহুদে পড়তে হবে একথা বলা হয়নি। এখানে রাক‘আতের সংখ্যার দিক থেকে বিতরকে মাগরিবের মত বলা হয়েছে— পদ্ধতির দিক থেকে নয়। এই কারণেই অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর নামাযকে মাগরিবের সাথে সাদৃশ্য করে পড়তে নিষেধ করেছেন।

আবু হুরায়রাহ্‌ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা মাগরিবের নামাযের সাথে সাদৃশ্য করে তিন রাক‘আত বিতর পড়ো না; বরং পাঁচ রাক‘আত দ্বারা বা সাত রাক‘আত দ্বারা বা নয় রাক‘আত দ্বারা কিংবা এগার রাক‘আত দ্বারা বিতর পড়।

শায়খ আলবানী বলেন, ‘তিন রাক‘আত বিতর দু’তাশাহুদে পড়লেই তা মাগরিবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। আর হাদীসে এটাকেই নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যদি একেবারে শেষ রাক‘আতে বসে তবে কোন সাদৃশ্য হবে না। হাফেয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে একথাই উল্লেখ করেছেন এবং সানআনী সুবুলস্‌ সালামে এই পদ্ধতিকে উত্তম বলেছেন।

সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, বিতর নামাযকে মাগরিবের মত করে আদায় করা তথা দুই তাশাহুদে অর্থাৎ, দু’রাক‘আতের পর তাশাহুদ পড়ে সালাম না ফিরিয়ে এক রাক‘আত পড়া সুন্নাতের পরিপন্থী যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

পাঁচ রাক‘আত বিতর

আবু আইয়ুব আনছারী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের উপর হক হচ্ছে বিতর নামায আদায় করা। অতএব যে পাঁচ রাক‘আত বিতর পড়তে চায় সে পাঁচ, যে তিন রাক‘আত পড়তে চায় সে তিন এবং এক রাক‘আত বিতর পড়তে চায় সে এক রাক‘আত পড়তে পারে। [আবু দাউদ ১২১২ । ইবনু মাজাহ ১১৮০]

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ রাক‘আত বিতর পড়তেন। এর মধ্যে কোথাও বসতেন না, একেবারে শেষ রাক‘আতে বসতেন। [মুসনাদে আহমাদ ২৪৫২০। সুনান নাসাঈ ১৬৯৮]

সাত রাক‘আত বিতর

আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বয়স্ক হয়ে যাওয়ার কারণে শরীর ভারি হয়ে গেলে সাত রাক‘আত বিতর পড়েছেন। [মুসলিম ১২৩৩]

এই সাত রাক‘আত পড়ার ক্ষেত্রে দু’রকম নিয়ম পাওয়া যায়—

ক. সাত রাক‘আত একাধারে পড়বে। মধ্যখানে বসবে না তাশাহুদ পড়বে না।

খ. ছয় রাক‘আত একাধারে পড়ে তাশাহুদ পড়বে। অতঃপর সালাম না ফিরিয়েই সপ্তম রাক‘আতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরাবে।

প্রথম নিয়মের পক্ষে দলীল হচ্ছে—

আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বয়স্ক হয়ে গেলে এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেলে তিনি সাত রাক‘আত বিতর পড়েছেন, একেবারে শেষ রাক‘আতে তাশাহুদে বসেছেন। [সুনান নাসাঈ: ১৬৯৯]

উম্মে সালামা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ রাকআত এবং সাত রাকআত বিতর পড়তেন। এ পাঁচ বা সাত রাক‘আতের মাঝে তিনি সালাম ফেরাতেন না বা কোন কথাও বলতেন না। অর্থাৎ একাধারে পাঁচ বা সাত রাক‘আত নামায পড়তেন। [নাসাঈ ১৬৯৫]

দ্বিতীয় পদ্ধতির দলীল হচ্ছে—

আশেয়া (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বয়ঃবৃদ্ধ হয়ে গেলে এবং দুর্বল হয়ে পড়লে সাত রাক‘আত বিতর পড়েছেন। একাধারে ছয় রাক‘আত পড়ে তাশাহুদে বসেছেন। তারপর সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে পড়েছেন এবং সপ্তম রাক‘আত পড়েছেন তারপর সালাম ফিরিয়েছেন। [সুনান নাসাঈ ১৭০০]

নয় রাক‘আত বিতর

এ নামায পড়ার পদ্ধতি হচ্ছে একাধারে আট রাক‘আত পড়ে বসে তাশাহুদ পড়বে। তারপর দাঁড়িয়ে নবম রাক‘আত পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে।

সা’দ বিন হিশাম (রাহি.) বলেন, আমি উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতর নামায সম্পর্কে আমাকে বলুন? তিনি বললেন, আমরা তাঁর জন্য মেসওয়াক এবং ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন তিনি জাগ্রত হতেন তখন মেসওয়াক করতেন এবং ওযু করতেন। অতঃপর নয় রাক‘আত নামায আদায় করতেন। এ সময় মাঝের কোনো রাক‘আতে না বসে অষ্টম রাক‘আতে বসতেন। বসে আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন ও দু‘আ করতেন। অতঃপর সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে পড়তেন এবং নবম রাক‘আত আদায় করতেন। এরপর তাশাহুদে বসে আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন ও দু‘আ করতেন। অতঃপর আমাদেরকে শুনিয়ে জোরে সালাম ফিরাতেন। [মুসলিম ১২৩৩]

উম্মু সালামা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তের রাক‘আত বিতর পড়তেন। যখন বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে গেছেন তখন নয় রাক‘আত বিতর পড়েছেন। [নাসাঈ ১৬৮৯]

এগার রাক‘আত বিতর

হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে এগার রাক‘আত নামায পড়তেন, তন্মধ্যে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর পড়তেন। অপর বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এশা নামায থেকে ফারেগ হয়ে ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এগার রাক‘আত নামায পড়তেন। প্রতি দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাক‘আতে বিতর পড়তেন। [মুসলিম ১২১৬]

তের রাক‘আত বিতর

এর দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম পদ্ধতি—

প্রতি দু’রাক‘আত পড়ে সালাম ফেরাবে এবং শেষে এক রাক‘আত বিতর পড়বে।

ইবনু আব্বাস (রা.) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমি নামাযে গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দণ্ডায়মান হলাম। তখন তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথায় দিয়ে ডান কানটি ঘুরিয়ে দিলেন অতঃপর আমাকে ধরে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু’রাক‘আত নামায আদায় করলেন, আবার দু’রাক‘আত আদায় করলেন, আবার দু’রাক‘আত আদায় করলেন, আবার দু’রাক‘আত আদায় করলেন, আবার দু’রাক‘আত আদায় করলেন, আবার দু’রাক‘আত আদায় করলেন, তারপর বিতর পড়লেন। অতঃপর একটু শুয়ে পড়লেন। যখন মুআয্‌যিন এল, তখন দাঁড়ালেন এবং হালকা করে দু’রাক‘আত নামায আদায় করলেন। এরপর ঘর থেকে বের হয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। [বুখারী ৯৩৬। মুসলিম ১২৭৪]

দ্বিতীয় পদ্ধতি—

তের রাক‘আত নামায দু’ দু’রাক‘আত করে পড়বে এবং শেষে একাধারে পাঁচ রাক‘আতের মাধ্যমে বিতর পড়বে।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে তের রাক‘আত নামায পড়তেন। (সর্বশেষে) এর মধ্যে পাঁচ রাক‘আত দ্বারা বিতর পড়তেন। এই পাঁচ রাক‘আতের মাঝে বসতেন না একেবারে শেষে বসতেন। [মুসলিম ১২১৭]

— শাইখ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল কাফী

এ জাতীয় আরও খবর