রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

Beta Version

ইসরাইল আরও বেশি আগ্রাসী

POYGAM.COM
ডিসেম্বর ১০, ২০১৭
news-image

প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ইসরাইলি বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ইসরায়েলি সেনারা। লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পর এবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি গুলি এবং বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। বিমান হামলা চালানো হয়েছে গাজায়।

শনিবার ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী দল হামাসের স্থাপনায় গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন দুজন। এর আগে শুক্রবারের বিক্ষোভে সেনা হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন।

গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, রামাল্লা, হেবরন ও নাবলুসে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনের জনগণ। হামাস নতুন করে ইন্তিফাদার (গণ-অভ্যুত্থান) ডাক দেওয়ার পর থেকে হাজারো ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে আসছে।

শুক্রবার ‘ক্রোধের দিবস’ পালন করেছে ফিলিস্তিনিরা। ওই দিন জুমার নামাজের পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়। গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ৩০ বছরের এক ফিলিস্তিনি যুবক মারা যান। এরপর আহত আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আর শনিবার ভোরে গাজা উপত্যকার নুসেইরাত এলাকায় হামাসের স্থাপনায় গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনারা। এতে নিহত হন দুজন। তাঁরা হলেন মাহমুদ আল-আল আতাল ও মোহাম্মদ সাফাদি।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা বলেন, গাজা শহরের দক্ষিণে হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত দু’জন হামাসের যোদ্ধা। হামাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিবিমান থেকে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তা আটকে দেওয়া হয়। এর জবাবে গতকাল ভোরে গোলাবর্ষণ করা হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হামাসের অস্ত্র মজুত ও তৈরির কারখানা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত দুই দিনের বিক্ষোভে গাজা, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আহত ৭৬৭ জনকে তারা চিকিৎসা দিয়েছে।

পেন্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না মাহমুদ আব্বাস

এই মাসের শেষের দিকে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সফরে যাবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। সেখানে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু মাহমুদ আব্বাস ওই বৈঠক বাতিল করেছেন। তাঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা মাজদি আল-খালদি জানিয়েছেন, জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের পর ওই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সব কটি রেড লাইন অতিক্রম করেছে।

মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে পূর্ণ সমর্থন ছিল পেন্সের। এমনকি তিনি এটি বাস্তবায়নের জন্য তৎপরতা চালিয়েছিলেন।

এদিকে জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের নিন্দায় যোগ দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই নির্বোধ বৃদ্ধ (ট্রাম্প) যে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

সূত্র: এএফপি

এ জাতীয় আরও খবর