সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

চুলে প্রতিদিনকার যত্ন

POYGAM.COM
ডিসেম্বর ৫, ২০১৭
news-image

জীবন যেমন ডেস্ক: প্রতিদিনকার ব্যস্ততায় নিজের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সুযোগ হয়তো নেই। হালের মেট্রোলাইফে প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্যই সময় নির্ধারিত। তবু তাড়াহুড়ার মাঝে নিজের জন্য একটু ভাবুন। দিন শেষে আপনার সব সাফল্য কিন্তু এই ‘আপনার’ জন্যই। চুল ও ত্বকের সুস্থতাও আপনার সুস্থতারই অংশ। নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় কিছু ভুল অভ্যাস হরহামেশাই চুলের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চুল ধোয়া-শুকানো-আঁচড়ানো— সব মিলিয়ে ভুল হওয়ার জায়গা অনেক। তবে একটু খেয়াল করলে এগুলো সংশোধন করে নেওয়া যায় অনায়াসেই। নিত্যদিনের জীবনে চুলের সুস্থতায় কী করা উচিত, আর কী করা উচিত নয়, আসুন দেখে নেয়া যাক।

চুল ধোয়ার নিয়মকানুন

শ্যাম্পু করার আগে ভালোভাবে চুল ভিজিয়ে নিন। তাড়াহুড়া করে সম্পূর্ণ চুলে একবারে শ্যাম্পু লাগানো উচিত নয়। কয়েকটি ভাগে ধীরে ধীরে শ্যাম্পু লাগাতে হবে। শ্যাম্পু করার সময় এলোমেলোভাবে হাত চালিয়ে চুলে জট লাগানো যাবে না; বরং চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর শ্যাম্পু করতে হবে। শ্যাম্পুর আগে তেল ম্যাসাজ করা প্রয়োজন। তেল ম্যাসাজ করার অন্তত আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন, চাইলে আগের রাতে তেল ম্যাসাজ করে রাখতে পারেন। যাঁদের চুল খুবই রুক্ষ প্রকৃতির, তাঁরা শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে মাথার ত্বকে কন্ডিশনার লাগানো যাবে না।

তেল কীভাবে লাগাবেন

সপ্তাহে একদিন হট অয়েল ট্রিটমেন্ট ট্রাই করুন। নারকেল তেল গরম করে স্কাল্পে হালকা হাতে ঘষুন। গরম জলে তোয়ালে ডুবিয়ে নিংড়ে নিন। তারপর তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। সহজে তেল চুলের গোড়ায় ঢুকে যাবে। পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন।

শ্যাম্পু করার খুঁটিনাটি

নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। শুস্ক, স্বাভাবিক, তৈলাক্ত বা কালারড হেয়ারের জন্যে আলাদা আলাদা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার আগে চুল ভাল করে আঁচড়ে নিন। চুলের জট তো ছাড়বেই, সঙ্গে ময়লাও পরিস্কার হবে, মরা কোষ ঝরে পড়বে। শ্যাম্পু করার জন্যে খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না। স্ক্যাল্প ও হেয়ার ফলিকলসের জন্যে গরম জল ক্ষতিকর। ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জল ব্যবহার করুন। নানারকমের কেমিকেল- সমৃদ্ধ শ্যাম্পু দেখে কোনটা ব্যবহার করবেন বুঝতে না পারলে মাইল্ড হার্বাল শ্যাম্পু বেছে নিন। নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। কয়েক সপ্তাহ অন্তর শ্যাম্পু বদলান।এর নানারকম উপাদানে   সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

চুল পরিষ্কার করার পদ্ধতি

শ্যাম্পু করার পর ভাল করে জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুলে যেন একদম ফেনা না লেগে থাকে। জল দিয়ে চুল ধোয়ার পর চুল চ্যাটচ্যাট করলে বা চুলে জট থাকলে বা আপনার যদি মনে হয় আর একবার শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভাল হয় তখন দ্বিতীয়বার শ্যাম্পু করবেন। তবে দ্বিতীয়বার অল্প পরিমাণে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

কন্ডিশনিং

চুল ধোয়ার পর মাথায় তোয়ালে জড়িয়ে নিন।

অতিরিক্ত জল তোয়ালে শুষে নেবে। তারপর কন্ডিশনার লাগান চুলের ডগায় ও ওপরের অংশে। ৫-৬ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন।

চুল শুকাতে তাড়াহুড়া নয়

চুল শুকাতে তাড়াহুড়া করবেন না। গোসল সেরে এসে কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে বসুন। টেবিল ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যানের হাওয়াও কাজে লাগাতে পারেন। তোয়ালে ব্যবহার করুন আলতোভাবে। চুল বা মাথার ত্বক মোছার কাজটিও করুন হালকাভাবে। তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়ার অভ্যাস বাদ দিয়ে দিন। হেয়ার ড্রায়ার পারতপক্ষে ব্যবহার না করাই ভালো। তবু খুব প্রয়োজন হলে ড্রায়ারের ঠান্ডা হাওয়ায় চুল শুকিয়ে নিতে পারেন। সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকলে একটু আগেই গোসল সেরে নিন, নইলে ভেজা চুল নিয়ে বিপত্তি বাঁধবে।

চুল আঁচড়াতে

সারা দিনে এক থেকে দুইবারের বেশি চুল আঁচড়ানোর প্রয়োজন নেই। খুব বেশি বার চুল আঁচড়ালে বেশি চুল পড়ার আশঙ্কা থাকে। প্রয়োজনবোধে চুলে আঙুল চালিয়ে চুল ঠিক করে নিতে পারেন। ভেজা চুল আঁচড়ানো উচিত নয়। কখনো যদি ভেজা চুল আঁচড়াতেই হয়, তাহলে মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। আর চুল অতিরিক্ত অগোছালো প্রকৃতির হলে ‘সেরাম’ ব্যবহার করতে পারেন; তাহলে চুলের অগোছালো ভাবটা কমবে, বারবার চিরুনি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।

স্কাল্প ম্যাসাজের উপকারিতা

চুল পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখার জন্য স্কাল্প ম্যাসাজ জরুরি। এতে ফলিকলস সক্রিয় থাকে, চুল মজবুত হয়। স্কাল্প ম্যাসাজে টেনশন কমে, রক্ত সঞ্চারণ ভাল হয়। স্কাল্প ম্যাসাজের জন্য আদর্শ নারিকেল তেল। চুলের ময়শ্চার বজায় থাকে, রোদের হাত থেকে চুলকে রক্ষা করে। আমন্ড অয়েলও এর জন্য ভাল।

ব্রাশ পরিষ্কার রাখার উপায়

ঈষদুষ্ণ জলে সাবান গুলে চিরুনি, হেয়ারব্রাশ পরিষ্কার করুন। ভাল করে চিরুনির ফাঁকগুলো পরিষ্কার করবেন। চুলের ময়লা ধুয়ে যাবে। সম্ভব হলে আগের দিন রাত্রে চিরুনি ও ব্রাশ সাবান জলে ভিজিয়ে রাখুন। চিরুনির দাঁড়া ভেঙ্গে গেলে বা দাঁড়াগুলো ধারালো হয়ে গেলে সেই চিরুনি বদলে ফেলুন। কারণ ভাঙ্গা ও ধারালো চিরুনির দাঁড়া থেকে স্কাল্পের ক্ষতি হতে পারে। অন্যের চিরুনি, হেয়ারব্রাশ ব্যবহার করবেন না।

স্কাল্পে ঘামের সমস্যা

গরমে তাপমাত্রা বাড়লে শরীর নিজেকে ঠাণ্ডা রাখার জন্যে ঘাম নিঃসরণ করে। স্কাল্প ঘামতে শুরু করে। রাত্রে চুল শুকিয়ে তারপর বড় দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে ভাল করে চুল আঁচড়ে নিন। সপ্তাহে ২ দিন অন্তর হার্বাল শ্যাম্পু করুন। চুল শুকিয়ে রোদে বেরোন।

ধুলোময়লা, খুশকির হাত থেকে রক্ষা পেতে

বাইরে বেরোলে গরমে চুলে ধুলোময়লা লেগে চুল নোংরা হয়ে যায়, তাই নিয়িমিত গোসল করা জরুরি। মাঝে মাঝে চুল আঁচড়ান। ধুলোময়লা সহজে চুল থেকে ঝরে পড়বে।

খুশকির সমস্যা কমবে। হার্বাল অয়েল ও ম্যাসাজ করতে পারেন।

তারপর ন্যাচারাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। খুশকি কমাতে লেবুর রস চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করতে পারেন। তেলের সঙ্গে আমলকি মিশিয়ে লাগান। খুশকি কমার সঙ্গে সঙ্গে মাথাও ঠাণ্ডা হবে। বেশি কেমিকাল-সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। হেনা, লেবুর রস, ডিম মিশিয়ে চুলে ১ ঘন্টা লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে একবার এই পদ্ধতি ট্রাই করুন।

ঘরোয়া উপায়ের ভাল-মন্দ

চুল উজ্জ্বল রাখার জন্যে ভিনেগার, ডিমের সাদা অংশ, কলা ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই উপকরণগুলি সহজে চুলের গভীরে প্রবেশ করে না। রেডিমেড হেয়ারকেয়ার প্রডাক্টে এই উপাদানগুলি এমন মলিকিউলার সাইজে থাকে, যাতে সহজে চুলের গোড়ায় উপকরণগুলি প্রবেশ করে চুলের গোড়া মজবুত করতে পারে। অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ধুতে সমস্যা হতে পারে।

সূত্র: ইন্টারনেট