সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন বিশেষ মর্যাদা

POYGAM.COM
ডিসেম্বর ৩, ২০১৭
news-image

জুমু‘আর খুতবা, মসজিদে হারাম, মক্কা
খুতবার তারিখ: ১৯ সফর ১৪৩৯ হিজরী; ১০ নভেম্বর ২০১৭ ঈসায়ী

সকল প্রশংসা অতি সম্মানিত ও অনুগ্রহশীল আল্লাহর জন্য, যিনি পবিত্র, সকল ক্ষমতার মালিক ও শান্তির আধার।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহকে ভয় করুন। আপনাদেরকে দেয়া তাঁর নিয়ামাত ও অনুগ্রহ স্মরণ করুন। তাঁর নিয়ামাতসমূহের শোক্‌র আদায় করুন। তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন দিবসের জন্য প্রস্তুতি নিন। আশা করা যায়, আপনারা সফলতা অর্জন করবেন।

হে মুসলিমগণ! আল্লাহ তাঁর মহান কিতাব কুরআন মজীদে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদের মর্যাদা দিয়েছি, স্থলে ও সমুদ্রে আমি তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি। তাদেরকে আমি পবিত্র জিনিসসমূহ দিয়ে জীবিকা দিয়েছি। আমি অন্য যতকিছু সৃষ্টি করেছি তার অধিকাংশের ওপর আমি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (বনু ইসরাঈল: ৭০)

‘আমি আদম সন্তানদের মর্যাদা দিয়েছি’— এর অর্থ হলো, আমি তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা লাভের সকল গুণ ও বৈশিষ্ট্য দিয়েছি। তাদেরকে অন্য অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।

হে মুসলিমগণ! উল্লিখিত আয়াত থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহ মানুষকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন। তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার সকল বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো— মানুষের সৃষ্টিগত অবয়ব। মানুষকে আল্লাহ উত্তম ও সুন্দর দৈহিক আকৃতি দিয়েছেন। তাকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মতো কাঠামো দিয়েছেন।

মানুষের দৈহিক কাঠামোর সৌন্দর্য্য সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তোমাদেরকে উত্তম আকৃতি দিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সবচেয়ে সুন্দর কাঠামোতে।’ (তীন: ৪)

আল্লাহ আরো বলেন, ‘যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমার কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন।’

মানুষের সম্মান ও মর্যাদার আরেকটি বিষয় হলো— আল্লাহ তাকে কথা বলা, ভাল-মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করা এবং কোনো বিষয় অনুধাবন করার শক্তি ও যোগ্যতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আকাশ ও জমিনের রবের শপথ! তোমরা যেভাবে কথা বলো, এটি (অর্থাৎ পরকাল) তেমনই সত্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে দুটি চোখ ও দুটি ঠোঁট দিইনি?’

আরো বলেছেন, ‘বল! তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বোধশক্তি। (কিন্তু) তোমাদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক লোকই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে।’

মানুষকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি।’ এর তাৎপর্য হলো— আল্লাহ তাদেরকে ভূমিতে চলাচলের জন্য উট, গাধা, খচ্চর ও প্রয়োজনীয় বাহন দিয়েছেন। সমুদ্রে চলাচলের জন্য নৌকা ও জাহাজের ব্যবস্থা করেছেন।

মানুষকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের আরেকটি বিষয় হলো, আল্লাহ মানুষকে উত্তম জীবিকা দিয়েছেন। আর তা হলোÑ উত্তম খাবার-পানীয়, পরিধানের পোশাক ও বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উত্তম উপকরণ আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন। জীবনকে স্বাভাবিক ও সহজভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়কে নিষিদ্ধ করেননি। বরং যারা হালাল করা বিষয়কে হারাম করে কঠোরতা আরোপ করতে চায়, তাদেরকে আল্লাহ ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করে বলেছেন, ‘বল, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য সৌন্দর্য্যরে যেসব উপকরণ ও উত্তম জীবিকা দিয়েছেন তা হারাম করল কে?’

এর অর্থ হলো—কার এতো সাহস যে, আল্লাহ বান্দাদেরকে যে নিয়ামাত দিয়েছেন তা হারাম করে, তিনি তাদের জীবনে যে প্রশস্ততা দিয়েছেন, তাকে সংকীর্ণ করে?

আল্লাহ মানুষের সম্মান ও মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি তাদেরকে আমার অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’

এর তাৎপর্য হলোÑ আল্লাহ মানুষকে অন্য সকল সৃষ্টির তুলনায় বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যা তাদেরকে দেয়া হয়নি।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ মানুষকে যেসব নিয়ামাত দিয়েছেন তার দাবি হলো— নিয়ামাতদাতা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

আমরা যেন কোনো অবস্থায়ই আল্লাহর ইবাদাত থেকে বিমুখ না হই। তাঁর নিয়ামাতের প্রতি অকৃতজ্ঞ না হই। তাঁর নিয়ামাতকে তাঁর অবাধ্যতার কাজে না লাগাই।

মানুষ কখনো কখনো তার প্রতি আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়। আল্লাহ তাকে যে অফুরন্ত নিয়ামাত দিয়েছেন তা স্মরণ করে না। এর মূল্য অনুধাবন করে না। তবে এ নিয়ামাত থেকে যখন বঞ্চিত হয়, কেবল তখনই নিয়ামাতের গুরুত্ব ও মূল্য অনুধাবন করে।

হে মুসলিম সমাজ! মানব জাতিকে আল্লাহ মানুষ হিসাবে যে মর্যাদা দিয়েছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদীকে তার চাইতে আরো বাড়তি মর্যাদা ও সম্মান দেয়া হয়েছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা সত্তরটি জাতি পূর্ণ করেছো, তোমরা তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ)

এর অর্থ হলো—উম্মাতে মুহাম্মাদীর আগে আরো ঊনসত্তরটি জাতি অতিক্রান্ত হয়েছে। এ উম্মাহ সত্তরতম উম্মাহ।

‘তোমরা’ বলতে বুঝানো হয়েছে সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের যথাযথ অনুসারীগণকে। অথবা সমগ্র উম্মাতে মুহাম্মাদিয়া— তারা শ্রেষ্ঠ উম্মাহ; আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন উম্মাহ। তাদের কর্ম, আচরণ, ঐক্যের মধ্য দিয়ে কিয়ামাতের দিন তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটবে। জান্নাতে তাদের মর্যাদার মাধ্যমে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

হে মুসলিমগণ! আল্লাহর প্রশংসা করুন, তিনি যে আপনাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাত বানিয়েছেন, যে উম্মাত শ্রেষ্ঠ উম্মাত। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন উম্মাত।

দ্বিতীয় খুতবা

সকল প্রশংসা আল্লাহর। তিনি যাকে চান সম্মান দেন, যাকে চান অপমানিত করেন। তিনি যাকে সম্মান দেন, তাকে অপমানকারী কেউ নেই। তিনি যাকে অপমানিত করেন, তাকে সম্মান দেয়ার কেউ নেই।

মানুষের মধ্যকার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি সে, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়ার অধিকারী।’

তাকওয়ার চাদর পরিধানকারী সম্মান ও মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য অধিকারী। আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিআল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। ওই ভাষণে তিনি বললেন, ‘হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের থেকে জাহেলী যুগের দম্ভ ও অহংকার সরিয়ে দিলেন। পূর্ব-পুরুষদের নিয়ে গর্বের প্রতিযোগিতা দূর করে দিলেন। মানুষ দু’ধরনের। এক ধরনের লোক হলো যারা ভাল ও কল্যাণের কাজ করে, আল্লাহকে ভয় করে। তারা আল্লাহর কাছে সম্মানিত। আরেক ধরনের লোক আল্লাহর অবাধ্য, তারা হতভাগা ও আল্লাহর নিকট অপমানিত।

মানুষ আদমের সন্তান। আল্লাহ মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে। অতঃপর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ে যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে-ই, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়ার অধিকারী।’ (তিরমিযী)

সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সম্পদ হলো মর্যাদা আর তাকওয়া হলো সম্মান।’ (তিরমিযী)

এর তাৎপর্য হচ্ছে—মানুষের কাছে একজন ব্যক্তির মর্যাদার ভিত্তি হলো সম্পদ, আর আল্লাহর কাছে সম্মানের ভিত্তি হলো তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয়।

একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো—আল্লাহ মানুষকে যে মানবিক মর্যাদা দিয়েছেন, তা অর্জনে নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করা। আল্লাহর কাছে আরো বেশি মর্যাদা লাভের জন্য তাকওয়া অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। মনে রাখতে হবে যে, তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় অর্জনেই সম্মান ও মর্যাদা। দুনিয়ার প্রতি আসক্তিতে রয়েছে অসম্মান ও লাঞ্ছনা। যার মধ্যে তাকওয়া আছে তার মধ্যে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি নেই। আমরা যদি মর্যাদা ও সম্মানে উন্নতি চাই, তার উচ্চ শিখরে উঠতে চাই, তাহলে আমাদেরকে তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর নিষেধ করা বিষয়সমূহ বর্জন করতে হবে। যদি তা না হয় তাহলে আমরা আমাদের মর্যাদা ও সম্মান হারিয়ে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবো। আল্লাহ যাকে অপমানিত করেন তাকে সম্মান দেয়ার কেউ নেই। নিজকে নিজে সম্মানিত করতে হবে আর তার মাধ্যম হলো তাকওয়া—আল্লাহর ভয়।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! পাপের মধ্যে লিপ্ত থাকা, প্রবৃত্তির অনুসরণ, সরল ও সুদৃঢ় পথ থেকে বিচ্যুতি— আল্লাহ মানব সন্তানকে যে মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছেন তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মুমিনের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! তাকওয়া অর্জনের জন্য আত্মার পরিশুদ্ধি প্রয়োজন। কেননা তাকওয়ার মূল জায়গা হলো অন্তর। তাই এ বিষয়টির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান প্রয়োজন।

নু‘মান বিন বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে। তা যদি সুস্থ থাকে তাহলে পুরো দেহ সুস্থ থাকবে। তা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে পুরো দেহই অসুস্থ হয়ে পড়বে। আর সেটি হলো কাল্ব তথা অন্তর।

অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা ও সুস্থ রাখার অনেক মাধ্যম ও উপায় রয়েছে। যেমন— কুরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দু‘আ। আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে প্রার্থনা করা তিনি যেন বিনয়ী একটি অন্তর দেন। সাদাকাহ করা, ইসতিগফার করা এবং ভালো লোকদের সাথে মেলামেশা।

আসুন আমরা আমাদের রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করি।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ…. (দরূদে ইবরাহীম)

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলিমদের শক্তি ও সম্মান দাও। কুফর ও কাফিরকে অপমানিত করো।

হে আল্লাহ! তোমার তাওহীদ বিশ্বাসী বান্দাদেরকে সাহায্য করো। তোমার ও তোমার দীনের দুশমনদের ধ্বংস করে দাও।

হে আল্লাহ! এই দেশ ও মুসলিমদের সকল দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা দাও।

হে আল্লাহ! যারা দীনের সাহায্য করে, তুমি তাদের সাহায্য করো। যারা তোমার মুমিন বান্দাদের অপমান করে, তাদেরকে অপমানিত করো।

হে আল্লাহ! আমাদের দেশে ও সব বাড়িঘরসমূহে নিরাপত্তা দাও। আমাদের শাসক ও দায়িত্বশীলদেরকে সংশোধন করে দাও।

হে আল্লাহ! আমাদের সকল কর্ম পরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতে ন্যাস্ত করো যারা তোমাকে ভয় করে এবং তোমার সন্তুষ্টির অনুসরণ করে।

হে আল্লাহ! তুমি তোমার দুর্বল বান্দাদের সাথে থাকো। তুমি তাদের সাহায্যকারী হও। তাদের সঙ্কট দূর করে দাও। তাদের সংকীর্ণতাকে প্রশস্ততায় রূপান্তরিত করো। তাদের বিপদ দূর করে দাও। তাদের ওপর তোমার প্রশান্তি অবতীর্ণ করো।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে সম্মান দাও, অপমানিত করো না। আমাদেরকে দান করো, বঞ্চিত করো না। আমাদেরকে সাহায্য করো। আমাদের বিপরীতে অন্যদেরকে সাহায্য করো না।

আমাদেরকে হেদায়াত দাও, হেদায়াতকে আমাদের জন্য সহজ করে দাও।

ওয়া আখিরু দা‘ওয়ানা…..

মূল: শাইখ ড. ফয়সাল আল-গায্‌যাবী
অনুবাদ: মুরাদ আশরাফী