সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে প্রার্থনা করবেন পোপ

POYGAM.COM
নভেম্বর ২৭, ২০১৭
news-image

পয়গাম ডেস্ক: প্রায় ৮০ হাজার ধর্মপ্রাণ লোক নিয়ে আগামী ১লা ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রার্থনা সভায় অংশ নেবেন পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে রোহিঙ্গারাও অংশ নিবেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপ সম্মিলনের সভাপতি কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই প্রার্থনাসভায় বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় ও সংস্কৃতির লোকজন অংশ নিবেন।

পোপের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভ্যাটিকান সিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৩০ নভেম্বর পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে আসবেন। ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এখানে থাকবেন।

পোপের তিন দিনের কর্মসূচি ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন পোপ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ধর্মীয় উপাসনায় যোগ দেবেন।

বাংলাদেশ সফরে বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবেন। সরকারের অনুমোদন ও সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের একটি ছোট দল যাতে পোপের সঙ্গে দেখা করতে পারে, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। প্যাট্রিক ডি রোজারিও এ কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কার্ডিনাল ডি রোজারিও বলেন, প্রথমে এক দিনের সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যে সময় সফরের পরিকল্পনা করা হয়, তখন রোহিঙ্গা ইস্যুটি ছিল না। রোহিঙ্গা পরিদর্শনে যাওয়া পোপের সফর কর্মসূচিতে সংযুক্ত করা অসম্ভব হয়ে গেছে। তাই সেখানে পোপের যাওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ‘এর বিপরীতে আমরা চেষ্টা করছি সরকারের অনুমোদন ও সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের একটি ছোট্ট দল এখানে নিয়ে আসার। কাজ প্রায় শেষের দিকে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কার্ডিনাল গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পোপের বক্তব্যে রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘পোপ মহোদয়ের কাছে সব থেকে বড় হচ্ছে– যারা নির্যাতিত তাঁদের কথা বলা। রোহিঙ্গা শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা আমার ভাই এবং বোন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিশপ ডেভার্স রোজারিও বলেন, বাংলাদেশে ক্যাথলিকমণ্ডলী ক্ষুদ্র, তবে তাদের উপস্থিতি ও সেবা দান স্পষ্ট। তাঁরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবা দিচ্ছে। মিয়ানমারের প্রান্তিক, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের জন্য পোপ আশার বাণী নিয়ে আসবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আর্চ বিশপ মোজেস এম কস্তা, বিশপ সেবাস্টিয়ান টুডু, বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস, বিশপ সুব্রত হালদার, বিশপ রমেন বৈরাগী প্রমুখ বক্তব্য দেন।