সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

রোহিঙ্গাদের ফেরার নিরাপদ পরিস্থিতি এখনও হয়নি: জাতিসংঘ

POYGAM.COM
নভেম্বর ২৫, ২০১৭
news-image

পয়গাম ডেস্ক: জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার মত পরিস্থিতি রাখাইন রাজ্যে এখনও হয়নি।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পরদিন ইউএনএইচসিআরের এ প্রতিক্রিয়া জানালো।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই মুহূর্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তাদের ফেরার এবং বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এখনও অনেক মানুষ পালাচ্ছে। বহু মানুষ সহিংসতা আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মক মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েছে। অনেকে নিজের চোখের সামনে বন্ধু স্বজনদের খুন হতে দেখেছে। বেশিরভাগই তাদের সহায় সম্বল হারিয়েছে, তাদের বাড়িঘর, গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা চার লাখের মত রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে। আর গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর আরও সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

তাদের ফেরার পথ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সম্মতিপত্রে (অ্যারেঞ্জমেন্ট) সই করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা এবং এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সম্মতিপত্রে।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওই সম্মতিপত্রে কী আছে— তা এখনও তারা দেখেননি।

তবে সহিংসতার শিকার হওয়া মিয়ানমারের ওই জনগোষ্ঠীর রাখাইনে ফেরার বিষয়টি যেন স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

মুখপাত্র বলেন, “প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বলেছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায়ে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্টতা ও নজরদারি থাকতে হবে।

এইচআরডব্লিউর শরণার্থী অধিকার বিভাগের পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, অস্ত্র হাতে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গাদের তাদের গ্রামে স্বাগত জানাবে— এটি ‘হাস্যকর’ একটি ভাবনা।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন হতে দেওয়া যাবে না। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে নিয়ে ক্যাম্পে রাখার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। তারা যাতে তাদের গ্রাম আর জমি ফিরে পায়, সেখানে যাতে নতুন ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

আর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও উদ্বাস্তু অধিকার বিভাগের পরিচালক চার্মেইন মোহাম্মদ বলেছেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো আলোচনাই অর্থপূর্ণ হবে না।

সূত্র: রয়টার্স