সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

রোহিঙ্গা ফেরাতে দু’দেশের সমঝোতা স্মারক সই

POYGAM.COM
নভেম্বর ২৩, ২০১৭
news-image

পয়গাম ডেস্ক: রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে এই চুক্তিতে সই করেন।

পরে মাহমুদ আলী সময় টেলিভিশনকে বলেন, এ ‘প্রথম পদক্ষেপ’, দুই দেশকে এখন ‘পরের স্টেপে’ যেতে হবে।

‘এখন কাজটা শুরু করতে হবে। সব ডিটেইল এর (সমঝোতা স্মারক) মধ্যে আছে। আমরা ঢাকায় ফিরে বিস্তারিত জানাব।’

তবে কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সে বিষয়ে সময়সীমা থাকছে না বলেই ইংগিত মিলিছে মন্ত্রীর কথায়।

তিনি বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে ফেরত না তো, এখন যেটা হচ্ছে এই কাজটা শুরু করতে হবে। ওখানে বাড়িঘরগুলোতো জ্বালিয়ে দিয়েছে… সমান করে দিয়েছে। এগুলো, বাড়িঘরতো তৈরি করতে হবে।’

অন্যদিকে মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয় দপ্তরের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট চিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ফরম (রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিবন্ধন ফরম) পূরণ করে আমাদের ফেরত পাঠালে যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে আনতে চাই।’

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

এর আগে বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনকে (ইউএনএইচসিআর) জড়িত রাখার দাবি তোলে বাংলাদেশ।

এতে মিয়ানমার সম্মত হয়নি। তবে তারা বলেছে, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ইউএনএইচসিআরকে কাজে লাগানো হবে। গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ দাবি তুলেছে এক বছরের মধ্যে সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে। তবে মিয়ানমার এ বিষয়ে আশানুরূপ জবাব দেয়নি। তারা বলেছে, দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের পুরোপুরি ফিরিয়ে নেয়া শেষ হবে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০১৬ সালের অক্টোবরের পরে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে শুধু তাদের ভেরিফিকেশন করতে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। তারাই রোহিঙ্গাদের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবে। তবে ২০১৬ সালের অক্টোবরের আগে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের কি হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।