সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

মহানবীর (সা.) দৃঢ়তা ও অবিচলতা

POYGAM.COM
নভেম্বর ১৮, ২০১৭
news-image

জুম‘আর খুতবা, মসজিদুল হারাম, মক্কা
খুতবার তারিখ: ৭ সফর ১৩৩৯ হিজরী, ২৭ অক্টোবর ২০১৭ ঈসায়ী

সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা প্রশংসা করি আল্লাহর। সাহায্য চাই তাঁর কাছে। ক্ষমা চাই তাঁর কাছে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই সকল অনিষ্ট থেকে এবং সকল ধরনের মন্দ কাজ থেকে।

‘হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’

‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে, সৃষ্টি করেছেন তার থেকে তার স্ত্রীকে, এবং তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন অনেক পুরুষ ও নারী। ভয় করো তাঁকে যার মাধ্যমে তোমরা প্রার্থনা করো, আর ভয় করো জরায়ুর সম্পর্ককে। তিনি তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।’

‘হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো, আল্লাহ তোমাদের কর্মসমূহ সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করে দেবেন। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করবে সে বড় ধরনের সফলতা অর্জন করবে।’

উত্তম অনুকরণীয় আদর্শ মুসলিম জীবনে একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। একজন মুসলিম তার জীবনে সেটি অনুসরণ করে, সেটিকে তার ঈমান ও আমলের জন্য মাইলফলক হিসাবে গ্রহণ করে। অনুকরণীয় মডেল তথা আদর্শ তার আত্মশুদ্ধিতে প্রেরণা যোগায়। তাকে উন্নতির উঁচু স্তরে ওঠার জন্য উৎসাহ দেয়।

ইসলামী উম্মাহর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় ধরনের অনুগ্রহ হলো—তিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ও সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের জন্য সর্বোত্তম অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ হিসাবে মনোনীত করেছেন, যেন তারা দীনকে মানা, ইসলামী মূল্যবোধের অনুশীলন ও উন্নত নৈতিকতার চর্চায় তাঁকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করতে পারে।

এদিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ আল্লাহর রাসূলের মধ্যে, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহকে ও পরকাল দিবসের সফলতাকে পেতে চায় এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে উত্তম আদর্শের বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাঁর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—দীনের ওপর তাঁর অটল ও অবিচল থাকা। আল্লাহ তাঁকে দীনের ওপর দৃঢ়তার সাথে অটল রেখেছেন। তাঁকে তিনি নিজ সাহায্যের মাধ্যমে অবিচলতা দিয়েছেন, সকল অবস্থায় তাঁকে সাহায্য করেছেন। জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে তিনি আমরণ অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন।

হে মুসলিম সমাজ! তাঁর বাস্তব জীবনে নানা আঙ্গিকে দৃঢ়তা ও অবিচলতার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো—তাঁর ওপর নাযিলকৃত ওয়াহীকে তিনি আঁকড়ে ধরেছিলেন, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমার ওপর যে ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে, তা আঁকড়ে ধর, নিশ্চয়ই তুমি সীরাতে মুসতাকীম তথা সরল ও দৃঢ় পথের ওপর আছো।’

আল্লাহর ঘোষণা, ‘নিশ্চয়ই তুমি সরল ও দৃঢ় পথের ওপর আছো’—এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি এ পথের ওপর এতোটা দৃঢ় যে, আল্লাহ তাঁকে যে আদর্শ ও দর্শন দিয়ে পাঠিয়েছেন, তা থেকে তিনি এক ইঞ্চিও বিচ্যুত হননি। আল্লাহর দেখানো পথ—কুরআন ও কুরআনের বিধান থেকে দূরে সরানোর মুশরিকদের সকল চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তাঁর রবের হেদায়াতকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমার প্রতি যে ওয়াহী প্রেরণ করেছি, তারা তা থেকে পদস্খলন ঘটানোর চেষ্টা করেছিলো, যাতে তুমি আমার সম্পর্কে তার বিপরীতে মিথ্যা রচনা করো। এমনটি করলে তারা তোমাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবে। আমি তোমাকে অবিচল না রাখলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা হলেও ঝুঁকে পড়তে।’ (বনু ইসরাঈল: ৭৩-৭৪)

হে আল্লাহর বান্দাগণ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৃঢ়তার আরেকটি দিক হলো—তাঁর রবের ইবাদাতে অবিচলতা। আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমলের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা। আল্লাহর আনুগত্যে ও ইবাদাতে তিনি অতিশয় ধৈর্য্যশীল ছিলেন। উত্তম কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তিনি খুবই সচেষ্ট থাকতেন।

আ‘য়িশা রাদিআল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পা যেন ফেটে যেতো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমনটি করছেন কেন? আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করবো না!’ (সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম)

চিন্তা করে দেখুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন, আল্লাহ তাঁর গুনাহ ও অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন, তারপরও তিনি কত কষ্ট করে ইবাদাত করতেন।

শুধু তাই না, সময় মতো কোন কাজ করতে না পারলে পরে তা সম্পন্ন করতেন। সহীহ মুসলিমে আ‘য়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনি কোন আমল করতেন, তা দৃঢ়তার সাথে করতেন। তিনি নিদ্রা অথবা অসুস্থতার কারণে রাতে সালাত আদায় করতে না পারলে দিনে বার রাকাত সালাত আদায় করতেন।

উম্মু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর দু’রাকাত সালাত পড়লেন, আমি তাঁকে এ দু’রাকাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আবদুল কাইস গোত্রের কিছু লোক তাঁর কাছে এসেছিল, তিনি তাদের সাথে ব্যস্ত সময় কাটানোর কারণে যুহরের পরের দু’রাকাত সালাত পড়তে পারেননি। এ দু’রাকাত হলো সেই সালাত।’ (সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

উপরের আলোচনা থেকে এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, কেউ কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত সাওয়াবের আশায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়াত বহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারবে। এমনটি করলে তা হবে সুন্নাহ পরিপন্থী। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস (রা.)-র সূত্রে একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলকে কম মনে করে নিজেরা একটি কর্ম পরিকল্পনা করেছিল। একজন সিদ্ধান্ত নিল—সারারাত জেগে সালাত আদায় করবে, দ্বিতীয় জন সিদ্ধান্ত নিল বছরজুড়ে সিয়াম তথা রোযা রাখবে। অপরজন সিদ্ধান্ত নিল সে বিবাহ করবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে সাথে তাদের চিন্তার সংশোধন করে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি। আমি রাতে ঘুমাই, সালাতও আদায় করি। রোযা রাখি, আবার রাখিও না। আমি বিবাহ করেছি—এটিই আমার আদর্শ ও কর্মনীতি। যে আমার এ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে সে আমার উম্মাত নয়।’

হে মুসলিম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৃঢ়তার আরেকটি দিক ছিলো—নৈতিকতা ও মূল্যবোধে দৃঢ়তা। উন্নত চরিত্র ও নৈতিকতার সকল বিষয়ে তাঁর অবস্থান ছিল শীর্ষে। তাঁর মধ্যে ছিল ভারসাম্য—অবস্থার পরিবর্তনে তাঁর অবস্থানের পরিবর্তন হতো না। সকল অবস্থায় তাঁর অবস্থান ছিল এক। বিপদে তিনি ছিলেন ধৈর্য্যশীল। ভালো অবস্থায় ছিলেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী। বিপদ সঙ্কটের আগে তিনি যেমন ছিলেন, বিপদ-সঙ্কটকালীন সময়েও তিনি তেমনি ছিলেন। তাঁর মধ্যে থাকতো না কোন অস্থিরতা ও দুঃখবোধ। সন্তুষ্টি ও ক্রোধ, কোনটিই তাঁর মধ্যে পরিবর্তন আনতো না। রাগ ও ক্রোধে তিনি কারো প্রতি যুল্‌ম-অবিচার করতেন না। মন্দ আচরণ করতেন না।

নিজের কারণে তিনি কারো সাথে রাগ করতেন না। প্রতিশোধ নিতেন না। তবে আল্লাহর মর্যাদা ও সম্মান লঙ্ঘিত হলে তিনি রাগ করতেন।

কী যুদ্ধ, কী স্বাভাবিক পরিস্থিতি—সকল অবস্থায়ই তাঁর অবস্থান ছিল অভিন্ন। তিনি কখনো অবিশ্বস্ততার আশ্রয় নেননি। চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি বিরোধী কাজ করেননি। মৃত লাশের অমর্যাদা করেননি। শিশু, নারী, বয়োবৃদ্ধদের হত্যার আদেশ দেননি। তিনি দয়া ও অনুগ্রহ করতেন, তবে এটি তাঁর দুর্বলতা ছিল না। তিনি বিনয়ী ছিলেন, তবে আত্মমর্যাদা বিলীন করতেন না।

হে মুসলিম সমাজ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রেও ছিলেন অটল ও অবিচল। মক্কায় অবস্থানকালে তিনি লোকদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর’ দিকে ডেকেছেন। ডেকেছেন ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই’-এর ভিত্তিতে এককভাবে আল্লাহর গোলামী-দাসত্বের দিকে। গোপনে ও প্রকাশ্যে এবং দিনে ও রাতে, মানুষকে সতর্ক করেছেন শির্‌ক থেকে।

মুশরিকরা তাঁর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে বলেছিল, তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, ‘আমার হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা হলেও আমি এ কাজ ছাড়বো না।’

তিনি মুশরিকদের নানা ধরনের অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে ক্ষমতা, সম্পদ ও পদ-পদবীর প্রস্তাব দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তারা তাঁকে উপহাস করেছে, যাদুকর বলেছে, প্রহার করে অজ্ঞান করেছে। গলায় চাদর পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করেছে, সিজদারত অবস্থায় উটের নাড়িভুড়ি পিঠে রেখেছে—তিনি এতোসব সহ্য করেছেন, কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে একটুও সরেননি।

তিনি দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। সত্য ও ন্যায়ের আদেশ করেছেন। অসত্য ও অন্যায় থেকে নিষেধ করেছেন, তাঁর এ দৃঢ়তার ফলস্বরূপ দীনের বিজয় সাধিত হয়েছে। দলে দলে লোক ইসলামে প্রবেশ করেছে। নিজ রবের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে মৃত্যুবরণ করেছেন।

প্রত্যেক মুসলিমকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে আকীদাহর ওপর দৃঢ়ভাবে টিকে থাকার, ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানোর, বাস্তব জীবনে ইসলামকে আঁকড়ে ধরার, পরীক্ষা ও বিপদ সঙ্কটে দুর্বলতার পরিচয় না দেয়ার, দীন ও দীনের দাওয়াত বিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য।

প্রিয় ভাইগণ! বিপর্যয়, বিপদ ও সঙ্কটে দৃঢ় থাকা হোদায়াতপ্রাপ্ত আল্লাহর বান্দাগণের অন্যতম বৈশিষ্ট। এটি তার ঈমানের বলিষ্ঠতার পরিচয় বহন করে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাসের প্রমাণ পেশ করে।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আপনাদের দীনের ওপর দৃঢ়ভাবে অবস্থান করুন। আপনাদের রবের শরীয়াহকে আঁকড়ে ধরুন। এর মাধ্যমে কল্যাণ ও সফলতা অর্জন করবেন।

দ্বিতীয় খুতবা

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মুসলিমদের বক্ষকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন। তাদেরকে সুস্পষ্ট হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি তাদের উত্তম সাহায্যকারী।

প্রত্যেক নিষ্ঠাবান মুসলিম আল্লাহর দীনের ওপর অটল-অবিচল থাকবে। এটি তার কাছে দীনের একটি মৌলিক দাবি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল অবস্থায় দৃঢ় থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করতেন। তিনি বলতেন, ‘হে অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের ওপর দৃঢ় করে দাও।’ তিনি আরো বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দীনের ওপর অটল-অবিচল এবং সঠিক পথের ওপর দৃঢ়তার সাথে টিকে থাকার জন্য প্রার্থনা করছি।’

দীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকা আল্লাহর একটি নিয়ামাত। তাঁর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহী দ্বারা পরিচালিত ছিলেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর কাছে দৃঢ়তার জন্য প্রার্থনা করতেন।

একজন মুমিনের কতই না প্রয়োজন, আল্লাহর কাছে দীনের ওপর শক্ত অবস্থান নিয়ে অবিচল থাকার জন্য বিনীত হয়ে প্রার্থনা করা। অন্তরে যেন কোন ধরনের বক্রতা না আসে, দুনিয়ার মোহ যেন তাকে আচ্ছন্ন করতে না পারে, কোন অবস্থাতেই যেন তার পদস্খলন না ঘটে—এ জন্য দু‘আ করা।

পদস্খলনের পরিণতি হলো—অবস্থার পরিবর্তন ঘটা। ভালো থাকলে এক অবস্থা, খারাপ থাকলে আরেক অবস্থা। এটি দৃঢ়তার পরিপন্থী। অবস্থার এ পরিবর্তন একজন মানুষকে হেদায়াত ও সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

হে মুসলিমগণ! দৃঢ়তার তাৎপর্য হলো—হেদায়াতের পথে অব্যাহত চলা, এ পথের দাবি পূরণ করা। নিয়মিত কল্যাণের কাজ করা। ঈমান ও তাকওয়াকে বৃদ্ধি করা।

একজন মুমিন সকল অবস্থায় ঈমানের দাবি অনুযায়ী কাজ করবে। যখন সে ভাল অবস্থায় থাকবে তখনও আল্লাহর আদেশ মানবে এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকবে।

সমস্যা ও সঙ্কটকালেও তাই করবে। এ অবস্থায় সে ধৈর্য্যধারণ করবে। ভাল অবস্থায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

এমনটি করলে আল্লাহ তাকে মৃত্যুর সময়ও দীনের ওপর অবিচল রাখবেন। কবরে তাকে অটল ও অবিচল থাকার তাওফীক দেবেন।

আসুন আমরা আল্লাহর মহান নির্দেশনা অনুসরণে আমাদের রাসূল মুহাম্মাদের ওপর বেশি বেশি সালাত ও সালাম পেশ করি।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা……. (দরূদে ইবরাহীম)

হে আল্লাহ! খুলাফায়ে রাশেদীন আবু বাকর, উমার, উসমান ও আলীসহ সকল সাহাবী ও তাবি‘ঈ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর তুমি সন্তুষ্ট হও।

তোমার অপরিসীম অনুগ্রহে তাঁদের সাথে আমাদের ওপরও সন্তুষ্ট হও।

হে আল্লাহ! জীবিত ও মৃত সকল মুসলিম ও মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! আমাদের মৃতদেরকে ক্ষমা করে দাও।

হে আল্লাহ! যারা আমাদের দেশ ও মুসলিমদের দেশের ক্ষতি করতে চায়, তুমি তাদেরকে নিজেদের মধ্যে ব্যস্ত করে দাও। তাদের সকল পরিকল্পনা ও ষড়ন্ত্রকে ব্যর্থ করে দাও।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলিমদেরকে শক্তি ও সম্মান দাও। (২ বার)

হে আল্লাহ! মুসলিমদের দেশসমূহে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দাও। আমাদের দেশ ও সকল মুসলিম দেশকে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করো।

হে আল্লাহ! মুসলিমদের কষ্ট, দুঃখ, সমস্যা দূর করে দাও। তাদের সকল কঠিন বিষয়কে সহজ করে দাও। সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ করে দাও।

সকল স্থানের নিপীড়িত মুসলিমদের সাহায্য করো।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার দীনের ওপর সুদৃঢ় রাখো।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা ও মুসলিদের সকল নেতাকে তোমার দীন ও তোমার বান্দাহদের স্বার্থে কাজ করার তাওফীক দাও।

ওয়া আখিরু দা‘ওয়ানা…….

মূল খুতবা: ড. ফয়সাল বিন জামীল আল-গাযযাবী
অনুবাদ: মুরাদ আশরাফী