সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

ইসলামে দেশপ্রেমের গুরুত্ব

POYGAM.COM
নভেম্বর ১২, ২০১৭
news-image

জুমু‘আর খুতবা, মসজিদে নববী, মদীনা
খুতবার তারিখ: ৩০ মুহাররাম ১৪৩৯ হিজরী; ২০ অক্টোবর ২০১৭ ঈসায়ী

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিয়ামাত দিয়েছেন। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

হে মুসলিমগণ! আমি আমাকে ও আপনাদেরকে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অর্জনের পরামর্শ দিচ্ছি, কেননা তাকওয়ার মাধ্যমেই কল্যাণ অর্জিত হয়। এর মাধ্যমেই বরকত লাভ করা যায়।

সুস্থ প্রকৃতি ও স্বভাব সম্পন্ন ব্যক্তির কাছে দেশপ্রেম একটি মূল্যবান বিষয়। একজন মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, যে দেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠে, যে দেশের সম্পদ থেকে সে জীবিকা গ্রহণ করে— সে দেশকে ভালোবাসতে হবে। এটিই স্বাভাবিক ও বাস্তবভিত্তিক। ইসলামী শরীয়াহ এ বাস্তবতাকে গুরুত্বের সাথে স্বীকৃতি দিয়েছে। দীন ও দুনিয়ার স্বার্থে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের নির্দেশনা দিয়েছে।

কুরআন মাজীদে জীবনের প্রতি ভালোবাসার সাথে দেশের প্রতি ভালোবাসাকে জুড়ে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বিশেষ এক প্রসঙ্গে বনু ইসরাঈলের ব্যাপারে বলেন, ‘আমি তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করে দিয়েছি, তারা যেন নিজেদের হত্যা করে অথবা নিজেদের দেশ থেকে বের হয়ে যায়। তাদের অল্প সংখ্যক লোকই এটি করেছে।’

ইমাম ইবনুল আরাবী (রাহি.) মূসা আলাইহিস সালামের পরিবারসহ প্রবাস জীবন থেকে নিজ দেশে আসার ঘটনার আলোচনায়— তিনি যে কঠিন পথ অতিক্রম করেছেন, পথে নানা ধরনের কষ্ট-সঙ্কট মোকাবিলা করেছেন, তার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।

দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যেও।

মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময় তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হে মক্কা, তুমি কতই না উত্তম দেশ, আমি তোমাকে কতই না ভালোবাসি! তোমার অধিবাসীরা আমাকে যদি তোমার থেকে বের করে না দিত, তাহলে তোমাকে ছাড়া অন্য কোনো দেশে আমি বসবাস করতাম না।’ (তিরমিযী)

আল্লাহর ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তে তিনি মদীনায় হিজরত করে মদীনায় বসবাস করেছেন। তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে মদীনা আলোকিত হয়েছিল। দীর্ঘ অবস্থানের কারণে মদীনাকেই তিনি নিজ দেশ হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। তাই মদীনার প্রতিও তাঁর ছিল ভালোবাসা। তিনি মাঝে মাঝে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের কাছে মদীনাকে মক্কার মতো প্রিয় করে দাও, অথবা তার চেয়ে বেশি।’ (সহীহুল বুখারী)

আল্লাহর রাসূলের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মুহাজির সাহাবীগণের প্রশংসায় আল্লাহ বলেন, ‘মুহাজিরগণ—  যাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছিল তাদের নিজ বাড়ি থেকে ও সহায় সম্পদ থেকে, তারা অন্বেষণ করে আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যিকার অর্থে সত্যবাদী।’

হে মুসলিম সমাজ! বান্দার প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হলো, নিজ দেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে জীবন যাপন  ও তার রবের ইবাদত করা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিজ ঘরে নিরাপদে যার সকাল হবে, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে আর তার কাছে থাকবে এক দিনের খাবার, সে প্রকারান্তরে দুনিয়া অর্জন করবে।’ (তিরমিযী)

হে মুসলিম সমাজ! ইসলামে দেশপ্রেমের ধারণা (concept) এমন মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতা ধারণ করা, যা দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণ ও স্বার্থে এবং অকল্যাণ ঠেকাতে কাজ করার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার প্রেরণা সৃষ্টি করে।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কল্যাণ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’

দেশপ্রেমের দাবি হলো, একজন নাগরিক তার দেশবাসী অন্যান্য ভাইদের সাথে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সাথে বসবাস করবে।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা ভাই ভাই।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতায় মুমিনদের উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো। দেহের একটি অঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হলে পুরো দেহ যন্ত্রণায় জেগে রাত কাটায়।’ (সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

দেশপ্রেমের একটি দাবি হলো, দেশের স্বার্থে ও দেশ গড়ার লক্ষ্যে একে অপরকে কল্যাণ ও আল্লাহকে ভয় করার জন্য উপদেশ ও পরামর্শ দেয়া। আল্লাহ বলেন, ‘সময়ের শপথ, মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে, তারা ছাড়া যারা ঈমান আনে, সঠিক কর্ম করে। একে অপরকে সত্য উপদেশ দেয় আর উপদেশ দেয় ধৈর্য্য ধারণের।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দীন হচ্ছে কল্যাণ কামনা।’ এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে, আল্লাহর রাসূল! কার জন্য? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের দায়িত্বশীল ও সাধারণ মুসলিমদের জন্য।’

হে মুসলিম ভাইগণ! দেশপ্রেমের আরেকটি দাবি হলো, সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী একদিকে দীন তথা ইসলাম, এর বিধান ও মৌলিক বিষয়, অপরদিকে দেশ ও দেশের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করা।

এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বনু ইসরাঈলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমরা কেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করবো না, অথচ আমাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে আমাদের দেশ ও সন্তানদের কাছ থেকে।’ (আল বাকারা: ২৪৬)

এ জন্যই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে নিজ সম্পদ রক্ষায় নিহত হবে, সে শহীদ! দীনের জন্য নিহত হবে, সে শহীদ। জীবন রক্ষায় নিহত হবে, সে শহীদ।’ (সুনান তিরমিযী ও আবূ দাউদ)

দেশপ্রেমের দাবি হলো, দেশ ও দেশের স্বার্থে দীন বিরোধী যে কোনো পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার জন্য চেষ্টা করা। কারণ এ ধরনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র হলো অন্যায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো অন্যায় দেখবে, সে শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করবে, তা যদি না পারে প্রতিবাদ করবে। আর যদি তাও না পারে, এ অন্যায়কে ঠেকানোর জন্য মনে মনে পরিকল্পনা করবে, আর এটি হলো দুর্বল ঈমান।’

হে আল্লাহর বান্দাগণ! দেশের প্রতি ভালোবাসা মুসলিমদের কাছে দাবি করে, তারা যেন নিজের জীবনকে যেভাবে ভালোবাসে দেশকেও সেভাবে ভালোবাসে। নিজ স্বার্থকে যেভাবে গুরুত্ব দেয়, দেশের স্বার্থকেও সেভাবে গুরুত্ব দেয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজ ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।’

মুসলিম ভাইগণ! ইসলামে দেশপ্রেমের আরেকটি ধারণা হলো, দেশ ও দেশবাসীর জন্য যা অকল্যাণকর তা দূর করা।

বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাস্তার অধিকার হলো রাস্তা থেকে মানুষের চলাচলে কষ্টদায়ক বিষয় সরিয়ে দেয়া। মানুষের চলাচলে কষ্ট হয় এমন কিছু রাস্তায় বা বসার স্থানে ফেলতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।

একজন মুসলিম তার দেশের লোকজনের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনাকে সামনে রাখবে, আর তা হলো, ‘প্রকৃত মুসলিম তো সে-ই যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ।’

ইসলামের অন্যতম একটি মূলনীতি হলো, ‘ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কারো ক্ষতি করা যাবে না।’

হে মুসলিম সমাজ! দেশ ও দেশবাসীর প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, একজন মুসলিমকে অবশ্যই দেশ ও দেশবাসীর প্রতি অবিশ্বস্ততার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবিশ্বস্ততা হলো পদ-পদবীতে অবস্থান করে নিজের স্বার্থে কাজ করা।

সবচেয়ে জঘন্য অবিশ্বস্ততা হলো দুর্নীতি, বিশেষ করে আর্থিক দুর্নীতিতে জড়ানো। এর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। আল্লাহ বলেন, ‘যে আর্থিক বিষয়ে অবিশ্বস্ততার আশ্রয় নিবে, সে কিয়ামাতের দিন ওই অপরাধ নিয়ে উপস্থিত হবে।’

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এমন কিছু লোক রয়েছে যারা অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ করে, কিয়ামাতের দিন তাদের পরিণতি হবে জাহান্নামের আগুন।’ (সহীহুল বুখারী)

ইসলামের ভাইগণ! দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্বের একটি বিষয় হলো— বিশ্বস্ততার সাথে সরকারের সহযোগিতা করা। মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর অবাধ্যতার মধ্যে পড়ে না এমন বিষয়ে সরকারের আনুগত্য করা আমাদের ওপর শরীয়াহ অর্পিত দায়িত্ব।

দেশের স্বার্থে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থ-বিরোধী সকল পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

আসুন আমরা আল্লাহকে ভয় করি এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি।

ওয়াফ্‌ফানাল্লাহ জামী‘আ…..

দ্বিতীয় খুতবা

আমি প্রশংসা ও শোক্‌র আদায় করছি আমার রবের। তিনি এক ও একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

হে মুসলিম সমাজ! দেশপ্রেম একটি স্বভাবসম্মত বিষয়। ইসলামী শরীয়াও এটিকে সমর্থন দেয়। বিষয়টি যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে যে দেশে হারামাইন শরীফাইন অবস্থিত, সে দেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হারামাইন শরীফাইনের দেশের ভিত্তি তাওহীদী আকীদার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ দেশের কোর্টগুলো পবিত্র শরীয়াহ দ্বারা পরিচালিত। দেশের লোকজন সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপন করে। এখানে সুন্নাহর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। এখানে বিদ‘আত প্রত্যাখ্যাত। তাই এ দেশের অধিবাসীগণের দায়িত্ব হলো, দেশ ও দেশবাসীর শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় একে অপরের সহযোগিতা করা। যারা দেশের ক্ষতি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া।

আসুন, আমরা আমাদের দেশের ও দেশবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করি। বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিই। অকল্যাণ, অনৈক্য, দলাদলি, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার সকল বিষয় থেকে সতর্ক থাকি।

হে দেশের যুব সমাজ! সুন্নাহর স্পষ্ট বিধানসমূহ আঁকড়ে ধরো। গোঁড়ামী ও চরমপন্থার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। সকল ধরনের ভ্রান্ত ও বিকৃত চিন্তা-দর্শন পরিহার করো। দেশ ও দেশবাসীর স্বার্থে সকল কল্যাণকর কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো। সম্ভাব্য সকল অনিষ্ট ও অকল্যাণকর কাজ ও কাজের চেষ্টাকে বাধা দাও।

আল্লাহ তোমাদেরকে যেসব নিয়ামাত ও অনুগ্রহ দিয়েছেন, তোমরা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করে দিও না। যেমনটি কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে—

‘আল্লাহ একটি জনপদের উদাহরণ পেশ করেছেন, যেটি ছিল নিরাপদ ও প্রশান্তিপূর্ণ, সেখানে জীবিকার সরবরাহ ছিল সব দিক থেকে, অতঃপর জনপদের লোকজন অকৃতজ্ঞ হলো, ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে ক্ষুধা ও ভয় দিয়ে আচ্ছন্ন করলেন।’

আসুন আমরা আল্লাহর মহান নির্দেশনা অনুসরণে আমাদের রাসূল মুহাম্মাদের ওপর বেশি বেশি সালাত ও সালাম পেশ করি।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ…. (দরূদে ইবরাহীম)

হে আল্লাহ! খুলাফায়ে রাশেদীন আবু বকর, উমার, উসমান ও আলীসহ সকল সাহাবী ও তাবি‘ঈ এবং কিয়ামাত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর তুমি সন্তুষ্ট হও।

তোমার অপরিসীম অনুগ্রহে তাঁদের সাথে আমাদের ওপরও সন্তুষ্ট হও।

হে আল্লাহ! জীবিত ও মৃত সকল মুমিন ও মুসলিম নারী-পুরুষকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! আমাদের মৃতদেরকে ক্ষমা করে দাও।

হে আল্লাহ! যারা আমাদের দেশ ও মুসলিমদের দেশের ক্ষতি করতে চায়, তুমি তাদেরকে নিজেদের মধ্যে ব্যস্ত করে দাও। তাদের সকল পরিকল্পনা ও ষড়ন্ত্রকে ব্যর্থ করে দাও।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলিমদেরকে শক্তি ও সম্মান দাও। (২ বার)

হে আল্লাহ! মুসলিমদের দেশসমূহে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দাও। আমাদের ও সকল মুসলিম দেশকে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করো।

হে আল্লাহ! মুসলিমদের কষ্ট, দুঃখ, সমস্যা দূর করে দাও। তাদের সকল কঠিন বিষয়কে সহজ করে দাও।

সকল স্থানের নিপীড়িত মুসলিমদের সাহায্য করো।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা ও মুসলিদের সকল নেতাকে তোমার দীন ও তোমার বান্দাহদের স্বার্থে কাজ করার তাওফীক দাও।

হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দাও। আমাদেরকে নিরাশদের অন্তর্ভুক্ত করো না।

ইবাদাল্লাহ, রাহিমাকুমুল্লাহ…….

মূল খুতবা: শাইখ হুসাইন আল শাইখ
তরজমা: মুরাদ আশরাফী