সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

আমি সবার প্রেসিডেন্ট: হালিমাহ ইয়াকুব

POYGAM.COM
অক্টোবর ৫, ২০১৭
news-image

হালিমাহ ইয়াকুব। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই পদে প্রথম মুসলিমও তিনি। হালিমাহ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার দেয়া ভাষণে বলেন, ‘যদিও এটি সংরক্ষিত নির্বাচন, তবুও আমি সবার প্রেসিডেন্ট, কোনো সংরক্ষিত প্রেসিডেন্ট নই।

হালিমাহ ইয়াকুব শৈশব থেকেই বেড়ে ওঠেন প্রচণ্ড পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। কারণ তিনি বাবাকে হারান মাত্র প্রায় আট বছর বয়সে। বাবা পেশায় ছিলেন দারোয়ানি। তা করে কতইবা আয় হতো। ফলে বড় হতে হয়েছে মায়ের কাছে থেকে।

হালিমাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানান ৬ আগস্ট ২০০৭। আর এ জন্য তিনি স্পিকার, পার্লামেন্টের মেম্বার ও দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান ৭ আগস্ট। অর্থাৎ সরকারি সব পদ থেকে ইস্তফা দেন। হালিমাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাম লেখান দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের অনুমোদন পেয়ে। সে কারণে নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেয়েছি, সে জন্য আমি সবার জন্যই প্রেসিডেন্ট হতে মাঠে নেমেছি। আমার পাশে আছে দেশটির জনগণ।’

দেশে বিদেশে হালিমাহ ইয়াকুব যেন নতুন নাম। যে কারণে তার প্রার্থিতার ব্যাপারে অনেকেই নানা সমালোচনা করেন। অনেকে বিরোধিতাও করেন। অনেকে ‘সি নট আওয়ার প্রেসিডেন্ট’ বলেও প্রচার চালান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তার নাম ঘোষণা করা হয় দেশের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

দেশটিতে এর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো নারীকে না দেখার কারণেই অনেকে তার সম্বন্ধে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিরূপ সমালোচনা করেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অথচ তিনি দেশটির পার্লামেন্টের নবম স্পিকার। এ পদে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় সাড়ে তিন বছর (জানুয়ারি ২০১৩ থেকে আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত)। তা ছাড়া তিনি একজন সফল রাজনৈতিক নেতাও। যার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০১ সালে।

জুরং গ্রুপ রিপ্রেজেন্টেশন কনস্টিটিউয়েন্সি বা জিআরসির হয়ে সংসদ সদস্য হন ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে। হালিমাহকে নিয়োগ দেয়া হয় কমিউনিটি উন্নয়ন, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। পরে হন সমাজ ও পরিবার উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। হালিমাহ ইয়াকোব সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার। এ পদে তাকে নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। তিনি ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি বা পিএপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন ২০১৫ সালের প্রায় শুরুতে।

হালিমাহ পড়ালেখা করেন টানজং কাটং গার্লস স্কুল, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে। আইন বিষয়েও বড় ডিগ্রি আছে তার। আইনে স্নাতক পাস করেন ১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গপুর থেকে। পরে কাজ শুরু করেন সিঙ্গাপুর বারে। একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন ২০০১ সালে। অর্জন করেন ডক্টরেট ডিগ্রিও। এ সংক্রান্ত সফলতা দেখে তাকে নিয়োগ দেয়া হয় ন্যাশনাল ট্রেউ ইউনিয়ন কংগ্রেসে। সেখানে তিনি কাজ করেন আইন কর্মকর্তা হিসেবে। তার কর্মদক্ষতা দেখে তাকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বানানো হয় ১৯৯২ সালে। তাকে ১৯৯৯ সালের দিকে সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের পরিচালকের পদ দেয়া হয়। এভাবেই তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন পেশাগত কাজের পাশাপাশি সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

মজার বিষয় হচ্ছে, তাকে প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই। বিষয়টিকে অনেকে বাঁকা চোখে দেখেছেন। প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশন কমিটি বা পিইক জানিয়েছে, অন্য প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র হালিমাই যোগ্য বলে তাকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়েছে। এ ধরনের যুগোপযোগী বা বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বহু সংস্কৃতির দেশটিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা আরো শক্তিশালী করতেই। অনেকে তাকে সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর নারী হিসেবেও জানেন। কেননা সংখ্যালঘুর মুসলিম মালয় গ্রুপের সদস্য তিনি। সংখ্যালঘু হলেও এবারই প্রথম নয়, এর আগেও নির্বাচন ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দেশটির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমাত্র বৈধ প্রার্থী ঘোষণার পর হালিমাহকেই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তা ছাড়া প্রার্থী হওয়ার বিধান মোতাবেক পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে তারই কেবল এ সংক্রান্ত ভালো অভিজ্ঞতা আছে।

হালিমাহর পুরো নাম হালিমাহ বিনতি ইয়াকুব। জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৩ আগস্ট সিঙ্গাপুরে। তার বাবা ভারতীয়। আর মা মালয়। হালিমাহর নানা অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বেরিটা/এমসি ডোনাল্ডসের ২০১১ সালের ইতিহাস সংরক্ষক পুরস্কার দেয়া হয়। যিনি ২০০৩ সালে পান বিশ্ব নারী পুরস্কার। আর ২০১১ সালে ভূষিত হন বিশ্ব সচেতন নারী পুরস্কারে। ২০১৪তে তাকে সিঙ্গাপুর কাউন্সিল অব উইমেন্স, সিঙ্গাপুর উইমেন্স হল অব ফেম এ পদান্বিত করা হয়।

দেশটিতে মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র প্রায় ১৩ দশমিক তিন শতাংশ মালয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত কম জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি বিশ্বে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছে।

মো: আবদুস সালিম