রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

Beta Version

জন্মস্থানের ভাষা থেকে যায় মস্তিষ্কে

POYGAM.COM
আগস্ট ২৯, ২০১৭
news-image

পয়গাম ডেস্ক: একটি শিশুকে তার জন্মস্থানের ভাষা শেখার আগেই কোনো বাবা-মা যদি তাকে ভিনদেশে দত্তক হিসেবে নেন, তখন একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়। তা হলো— শিশুটি যখন বড় হয়, তখন তার নিজের দেশের ভাষা-সংস্কৃতির বিষয়টি সে কতটুকু মনে রাখে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্ম নেওয়া দেশের ভাষা কখনোই ব্যবহার না করলেও স্মৃতিপটে সেই ভাষার ছাপ থেকে যায়।

রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স চলতি বছর তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নেদারল্যান্ডসে প্রাপ্তবয়স্ক দুই দলের মানুষের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়। একটি দলে অংশ নেওয়া ২৯ জনের সবাই নেদারল্যান্ডসেই জন্মগ্রহণ করেন। আরেক দলের ২৯ জন সদস্য কোরিয়ায় জন্ম নেন। ভাষা শেখার আগেই ওই ২৯ জনকে দত্তক নেন নেদারল্যান্ডসের দম্পতিরা।

কাউকে কাউকে দত্তক নেওয়া হয় ছয় মাস বয়সের আগেই। আর কাউকে দত্তক নেওয়া হয় হাঁটতে শুরু করার সময়ে। গবেষকেরা কোরীয় ভাষার তিনটি ব্যঞ্জনবর্ণ বেছে নেন, যে ব্যঞ্জনবর্ণগুলোর সঙ্গে ডাচ ভাষার কোনো ধরনের মিল নেই। এরপর দুই সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ মেয়াদে গবেষণায় অংশ নেওয়া ওই দুটি দলকে ব্যঞ্জনবর্ণ তিনটি উচ্চারণ করতে বলা হয়।

প্রশিক্ষণের সময় শেষ হওয়ার পর মূল্যায়নে দেখা যায়, উচ্চারণের ক্ষেত্রে কোরিয়ায় জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের সবাই নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন। শব্দ পুনরাবৃত্তিতেও তাঁরা ভালো করেছেন। এতে প্রমাণিত হয়, জন্মস্থানের ভাষা নবজাতকের মস্তিষ্কে ছাপ ফেলে। পরে ওই ভাষার প্রয়োগ তাঁদের জন্য সহজ হয়।

গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী মিরিয়াম বোর্সমা এ গবেষণা-সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘এ গবেষণার আরেকটি অভূতপূর্ব ফল হলো, সবেমাত্র হাঁটতে শেখার সময় ও নবজাতক অবস্থায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও পার্থক্য লক্ষ করা যায়নি। আপনার মনে হতে পারে, যে শিশু যত বেশি সময় জন্মস্থানের ভাষার সংস্পর্শে এসেছে, তার মস্তিষ্কে ওই ভাষার ছাপ বেশি শক্তিশালী। তবে এ গবেষণায় দেখা গেছে বিষয়টি তা নয়।’ তিনি বলেন, ‘এর মানে দাঁড়ায়, জন্মের সময়ের প্রথম দিনগুলোতেই দরকারি ভাষাজ্ঞান তৈরি হয়। ভাষার সম্ভাব্য প্রকৃতি সম্পর্কে এটি একটি বিমূর্ত জ্ঞান, শব্দজ্ঞান নয়।

রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সের ওয়েবসাইট অবলম্বনে কৌশিক আহমেদ

সূত্র: প্রথম আলো