সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

Beta Version

ইবনে সিনা: চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রপথিক

POYGAM.COM
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭
news-image

ইবনে সিনা। পুরো নাম আবু আলী আল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সিনা। তিনি সাধারণত ইবনে সিনা, বু-আলী সিনা এবং আবু আলী সিনা নামেই অধিক পরিচিত। ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তুর্কীস্তানের বিখ্যাত শহর বুখারার নিকটবর্তী আফসানা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম সিতারা বিবি। পিতা আবদুল্লাহ খোরাসানের শাসনকর্তা ছিলেন। জন্মের কিছুকাল পরেই তিনি ইবনে সিনাকে লেখপড়ার সুব্যবস্থা করার জন্য বুখারায় নিয়ে আসেন। অসামান্য মেধার অধিকারী এই  বালক মাত্র দশ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হেফয শেষ করেন। ইবনে সিনার তিনজন গৃহশিক্ষক ছিলেন।

১৭ বছর বয়সে তিনি গৃহশিক্ষকদের নিকট হতে সকল জ্ঞান-লাভ শেষ করেন। এরপর শিক্ষক নাতেলী তাকে স্বাধীনভাবে গবেষণা করতে দেন। ইবনে সিনা তার জীবনীতে লিখেছেন, তার জীবনে এমন বহু রাত অতিবাহিত হয়েছে যখন তিনি ক্ষণিকের জন্যও ঘুমাননি।

যদি কখনও কোন বিষয় বুঝতে না পারতেন কিংবা জটিল কোন বিষয়ের সম্মুখিন হতেন তখনি মসজিদে গিয়ে নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বলতেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি আমার জ্ঞানের দরজাকে খুলে দাও। জ্ঞান লাভ ছাড়া আমার আর কোন কামনা নেই।’

তারপর ঘরে এসে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে গেলে প্রশ্নগুলো স্বপ্নের ন্যায় তার মনের পর্দায় ভাসতো এবং তার জ্ঞানের দরজা খুলে যেত। ঘুম থেকে জেগে উঠলেই সমস্যার  সমাধান পেয়ে যেতেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় ইন্দ্রজালের সৃষ্টি করে বাদশাহকে সুস্থ করে তোলেন।

কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাদশাহ রাজদরবারের কুতুবখানা খুলে দেন। অসীম ধৈর্য্য সহকারে অল্প কিছুদিনেই তিনি সমস্ত বই মুখস্ত করে ফেলেন। ১৯ বছর বয়সে বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, ন্যায়শাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র, কাব্য-সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। ২১ বছর বয়সে মাজমুয়া নামক একটি বিশ্বকোষ রচনা করেন।

ইবনে সিনার সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে গজনীর সুলতান মাহমুদ তাকে পেতে চাইলেন। কিন্তু ইবনে সিনা ছিলেন আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন স্বাধীন ব্যক্তি। সুলতান মাহমুদের কাছে গেলে তার স্বাধীন জ্ঞান গবেষণার ক্ষতি হবে ভেবে তিনি তখনি আত্মগোপন করেন।

পরবর্তীতে তিনি রাও প্রদেশে এবং ইস্পাহানে আশ্রয় নেন। তিনি আল-কানুন ও আশ-শেফা নামক দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। আল-কানুন কিতাবটিতে শতাধিক রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া আছে। আশ-শেফা দর্শন শাস্ত্রের একটি বিখ্যাত গ্রন্থ যা ২০ খণ্ডে বিভক্ত।

মেনিনজাইটিস রোগটি তিনি আবিষ্কার করেন। অদম্য নির্ভীক এই জ্ঞান সাধক মনে করতেন—‘আল্লাহর ভয় মানুষকে সকল ভয় থেকে মুক্ত দেয়।’ রাজপরিবারে জন্ম নেয়া ইবনে সিনা ধন সম্পদ, রাজসম্মান সবকিছু বাদ দিয়ে জ্ঞান সাধনা ও কঠোর অধ্যবসায়কে জীবনের ব্রত করে নিয়েছিলেন।

তার এক ভৃত্য ঔষধের সাথে আফিম মিশিয়ে দিলে এরই বিষক্রিয়ায় ১০৩৭ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অগ্রপথিক দুনিয়া ত্যাগ করেন।

লেখক: কানিজ ফাতেমা