রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

Beta Version

পয়গাম প্রতিদিন: কুরআনের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি

POYGAM.COM
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

পয়গাম ডেস্ক: সম্প্রতি ব্রিটেনে পাওয়া গেছে ১,৩৭০ (এক হাজার তিনশত সত্তর) বছর আগের কুরআন! তবে পুরো কুরআন নয়, হাতে লেখা কুরআনের কিছু পৃষ্ঠা। বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে এগুলো পাওয়া গেছে। রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে এর হস্তলিপির সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা।

হিজাজি হরফে হাতে লেখা কুরআনের ওই অংশটি ১৯২০ সাল থেকে বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল। লাইব্রেরিটির প্রাচীন গ্রন্থ বিভাগে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন পুরোনো গ্রন্থ ও দলিলপত্র রাখার স্থানে এটি সংরক্ষিত ছিল।

জানা গেছে, ১৯২০ সালের দিকে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাগারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বহু প্রাচীন, তিন হাজারেরও বেশি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন ইরাকী বংশোদ্ভুত ঐতিহাসিক ও যাজক আলফন্সে মিংগানা।

প্রায় একশত বছর ধরে পড়ে থাকা এই পাণ্ডুলিপিটি নজরে আসে পিএইচডি গবেষণারত নারী গবেষক আলবা ফেডেলি-র এবং তিনি এর বয়স নির্ধারণ করার জন্য রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাক্সিলারেটর ইউনিটে এই পরীক্ষা চালানো হয় এবং তাতে প্রমাণিত হয়, ভেড়ার চামড়ার ওপর লেখা এই পাণ্ডুলিপি বিশ্বে এযাবতকালে প্রাপ্ত কুরআনের সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপি যা লেখা হয়েছে ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ সালের মধ্যবর্তী কোন সময়ে।

গবেষকরা বলছেন, এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে লিখিত বলে তাদের ধারণা। খলিফা হযরত উসমানের (রা.) সময় এটি ব্রিটেনে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

কুরআনের এ অংশটি লেখা হয়েছে সম্ভবত ভেড়ার চামড়ার ওপর। গবেষকরা এটাও বলেছেন যে, কুরআনের প্রাচীন এই অংশটির সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত কুরআনের কোনো পার্থক্য নেই।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম বিষয়ক প্রফেসর ভেডিভ থমাস বলেন, ‘কুরআনের অংশটি যিনি লিখেছেন, তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে  ভালোভাবেই জানতেন। তিনি হয়তো তাঁকে দেখেছেন, এমনকি কথা বলতেও শুনেছেন। হয়তো তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেই চিনতেন।’

ইসলামের প্রথম যুগে লেখা কুরআনের খোঁজ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা। বিশেষ সংগ্রহশালার পরিচালক সুসান ওরওয়াল বলেন, ‘এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, পৃথিবীর প্রাচীনতম কুরআনের একটি অংশ আমাদের কাছে আছে। এটি নিয়ে আমরা গর্বিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানতাম এটি বেশ পুরোনো। তবে কখনোই আশা করিনি যে, এটি মহানবীর জীবিত অবস্থায় লেখা হতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সর্বসাধারণের দেখার জন্য শিগগিরই কুরআনের অংশটি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে।

ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি মুসলমান বাস করেন বার্মিংহামে। নিজেদের শহরেই কুরআনের প্রাচীনতম একটি অংশ খুঁজে পাওয়ায় খুশি তাঁরা। বার্মিংহাম কেন্দ্রীয় মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘কুরআনের পাতাগুলো দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হই। আমার চোখেমুখে আনন্দ ফুটে ওঠে। প্রত্যাশা করছি, ব্রিটেনের সব মুসলমানই বার্মিংহামে আসবেন কুরআনটি একনজর দেখতে।’

[ইন্টারনেট]